বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

সাবজেক্ট রিভিউ - গ্লাস এন্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (GCE)

আধুনিক বিশ্বের চলমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আলো থেকে আলোকিত করতে স্বীকৃত অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার সিরামিক। দেশের ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০১১-১২ সেশনে রুয়েটেই প্রথম এই বিভাগের শুভসূচনা ঘটে, যদিও বুয়েটে এই বিষয়ে এম.এস.সি কোর্স চালু আছে।
এখন আসা যাক, গ্লাস এন্ড সিরামিকে কি কি বিষয় পড়ানো হয়। প্রথমেই বলি, বিশ্বে মেটাল আর প্লাস্টিক ছাড়া যা কিছু আছে সবই সিরামিকের অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা নেটে সার্চ দিলে দেখা যাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে সাবজেক্ট খোলা আছে, কিন্তু বাংলাদেশে গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক বিষয়টি একসাথে দেওয়া হয়েছে বিশ্বে শুধুমাত্র গ্লাসেরই ব্যবহার প্রচুর এই কারণে, যাতে করে এটার উপর আলাদা গুরুত্বারোপ করা হয়।
এক কথায় যদি বলতে চাই, গ্লাস এন্ড সিরামিকে কি পড়ানো হয় তাহলে বলতে হবে গ্লাস এন্ড সিরামিক সম্পর্কীয় পণ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া বা ইংরেজিতে যেটাকে বলে প্রোডাকশন প্রসেস । এছাড়া বিভিন্ন রকমের গ্লাস এবং সিরামিকের গঠন প্রণালী এবং তাদের ডিজাইন ও স্ট্রাকচার ডেভলপ ও এনালাইসিস সম্পর্কে বেশ ভালো একটি ধারণা দেওয়া হয় । এই সাবজেক্টে সৃজনশীলতার অনেক সুযোগ রয়েছে । প্রোডাকশন প্রসেস কিভাবে সহজ করা যায় তা একজন সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার এর দায়িত্ব । যত প্রসেস সহজ হবে উৎপাদিত জিনিসের দাম ও তত কম হবে।
অনেকের হয়তবা একটা ধারণা রয়েছে যে সিরামিক মানেই চীনামাটির থালা-বাসন, মগ, টাইলস। মজার ব্যাপার হচ্ছে যে আমার নিজেরও কিন্তু প্রথমদিকে এমনটি ই ধারণা ছিল। কিন্তু সত্যি বলতে, সিরামিকের ব্যাবহারের ক্ষেত্রে এগুলো খুবই সামান্য উদাহরণ । আমাদের মোবাইল সিমকার্ড তৈরি করা হয় সিরামিক উপাদানের উপর রেখে, এছাড়া মেমোরি কার্ড কিংবা হার্ড ডিস্কের যে কোয়ালিটি ডেভলপ সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে হয় একজন সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার কে । এছাড়া রকেট, প্লেন এসবে তো সিরামিকের ব্যবহার আছেই।
এবার আসি জব সেক্টর প্রসঙ্গে। প্রথমেই বলে নেই অনেকের ভেতর একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে নতুন সাবজেক্ট যেহেতু তাই হয়তবা জব সেক্টরে তেমন একটা ডিমান্ড নাই। এটা সবার একটা ভুল ধারণা। মুলত ভার্সিটি গুলোতে নতুন বিষয় খোলা হয় দেশের ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে।
গ্লাস এন্ড সিরামিক পড়ে জব করার প্লেস হচ্ছে বিভিন্ন গ্লাস এবং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি । আমাদের বাংলাদেশে ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ এর উপর গ্লাস এবং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি আছে ।তাই জবের জন্য আলাদা করে চিন্তা করার কোন অবকাশ নেই। এছাড়া এটা যেহেতু প্রোডাকশন প্রসেস রিলেটেড তাই তুমি ইচ্ছে করলেই প্রোডাকশন সেক্টরে সুইচ করে চলে যেতে পারো।
এছাড়া মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও কিন্তু একজন গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার ইচ্ছে করলেই বড় ভুমিকা রাখতে পারে। সুতরাং, বুঝতেই পারছ যে জব ফিল্ডে এই বিষয়ের চাহিদা। একটা বিষয় তোমাদের বলে রাখি যে, যেহেতু রুয়েটেই একমাত্র এই ডিপার্টমেন্টে বি এস সি কোর্স কমপ্লিট করানো হয় তাই চাকরীর ক্ষেত্রে তোমার পূর্বসূরি হবে কিন্তু তোমার ই ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়ারা আর বিদেশে তো আরও চাহিদা রয়েছে ।
তারপরে তুমি তোমার দক্ষতা দিয়ে আরও ভাল পজিশনে যাবার সুযোগ তো আছেই। কারণ পড়াশুনা শেষ করে একজন গ্লাস এন্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে জব করবে আর এই সেক্টরে দক্ষতা বেশি করে দেখা হয় সিজিপিএ নয় খুশির খবরহচ্ছে- আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রি গুলো থেকে উৎপাদিত সিরামিক পণ্য এখন বিদেশ ও রপ্তানি হচ্ছে দেশের চাহিদা মিটিয়ে।
শেষে শুধু এটুকুই বলব- দিন যত যাচ্ছে গ্লাস এন্ড সিরামিকের ব্যবহার ততই বাড়ছে এবং নিকট ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম চাহিদা সম্পন্ন সাবজেক্ট এটি হতে যাচ্ছে এই বিষয়ে সন্দেহ নেই। সবাই কে সিরামিকের বর্ণীল জগতে স্বাগতম।
লিখেছেন
আব্দুল মোবিন
গ্লাস এন্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং
২য় বর্ষ, রুয়েট।

Subject Review: Leather Engineering (LE)

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যকে সংশ্লেষণ,উৎপাদন এবং পরিশুদ্ধ করণের সাথে জড়িত, যার মাধ্যমে এগুলোকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক দ্রব্য যেমনঃ
Footwear,Clothing,Gloves,Bags,Pholstery - including Automobiles and Sports goods ইত্যাদিতে রুপান্তরিত করা যায় ।উইকিপিডিয়া অনুসারে “Leather is a durable and flexible material created by tanning of animal rawhide and skin”।অর্থাৎ ‘Leather’ বলতে শুধু মাত্র চামড়া (skin) বললে ভুল হবে।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এই সাবজেক্ট টা নিয়ে একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে। অনেকেতো একে ‘চামড়া প্রকৌশল’ বলে দাবি করে! যাই হোক আসল কথায় আসা যাক,এর manufacturing process টি বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে cottage industries থেকে heavy industry তে ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি তে পড়ানো এই Leather Engineering সাবজেক্ট টি মূলত Raw leather কে Finished leather এ synthesis করার তিনটি পর্যায় সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে শিক্ষার্থীদেরকে। এই তিনটি পর্যায় গুলো হলঃ Preparatory stages, Tanning and Crusting ।
এখন আসা যাক Leather Engineering বিভাগের core subject গুলো সম্পর্কে। Core subject গুলো হলঃ*Biochemistry of proteins, *principles of Pre-Tannage,*Analytical chemistry of pre –Tanning materials, *Biotechnology of Leather manufacture,*Mechanics Leather Machines, *Methods of leather manufacture,* Post tanning operations, *Analytical Chemistry of Post tanning & finishing agents,*Analytical Chemistry of leather, *Footwear Engineering and Leather products Engineering.
এই বিষয় গুলো ছাড়াও চার বছরের কোর্সের এই ডিপার্টমেন্টটিতে প্রথম ২ বছরে ডিপার্টমেন্টল সাবজেক্ট এর পাশাপাশি Basic Electrical Engineering, Computer fundamental and programming , computer aided graphics design, Basic Mechanical Engineering, ইত্যাদি বিষয়গুলো সহ Inorganic and Organic Chemistry, Mathematics, Physics, Accounting, English, and Economics সাবজেক্ট গুলো পড়ানো হয়।
Leather Engineering এ B.Sc Engineering পাশ করার পর শিক্ষার্থীরা Leather Engineering এ M.Sc করার পাশাপাশি Chemical Engineering এবং IPE ডিপার্টমেন্ট এও M.Sc Engineering পড়তে পারে। একজন Leather Engineering এর স্টুডেন্ট যে সকল সেক্টরে job করতে পারেঃ
• As Leather Engineer
• As Chemical engineer
• In Footwear Industry
• In Leather Products Industry
• In Leather Products Development Industry
• In Polymer Industry
• In Dyeing Industry
• Waste Management Industry
• Renewable Energy
বাংলাদেশে কেবল মাত্র ২ টি ইউনিভার্সিটি তে B.Sc in Leather Engineering ডিগ্রী প্রদান করা হয়ে থাকে । Khulna University Of Engineering & Technology (KUET) এ (60 seats) এবং Instute of Leather Engineering & Technology (University of Dhaka) তে (LE=40 seats, FWE=40 seats, LPE=40 seats) ।
কুয়েটে Leather Engineering ডিপার্টমেন্টে একইসাথে Leather Manufacturing Engineering, Leather products Engineering এবং Footwear Engineering বিষয় গুলো পড়ানো হয়। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে Leather Engineering & Technology অনুষদে ঐ তিনটি সাবজেক্ট এ আলাদা আলাদা তিনটি department আছে ।
আমাদের দেশে ঢাকার হাজারীবাগ ছাড়াও চট্রগ্রাম এ ও leather and leather goods এর বর্তমান চাহিদার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে Leather Industry । কিন্তু এসকল industry এর জন্য যে পরিমান দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দরকার তা fulfill করতে পারেনি বাংলাদেশ, ফলশ্রুতিতে বিদেশ থেকে leather engineer বাংলাদেশে আনা হচ্ছে । বাংলাদেশ সরকার এই চাহিদা বুঝতে পেরে 2010 সালে কুয়েটে ৬০ আসন বিশিষ্ট Leather Engineering department খোলার অনুমোদন দেয় ।
চামড়া ও চামড়া জাত দ্রব্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের Leather Industry চতুর্থ অবস্থানে (বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের মধ্যে )। একটা সময় ছিল যখন মানুষ tannery এর নাম শুনলে নাক শিটকে নিতো, কিন্তু সাবজেক্ট টার সাথে বিভিন্ন কেমিক্যাল term এর পাশাপাশি bio-chemical এবং bio-technological term এর সংমিশ্রণের কারণে Leather Engineering বর্তমান বহির্বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
লিখেছেনঃ হাসান রনি
লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, কুয়েট

Subject Review : Applied Statistics

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Applied Statistics Department এর সাবেক ছাত্র । মজার ব্যাপার হল যখন আমি ঢাবি তে ভর্তি পরীক্ষা দেব তখনো নিজে জানতাম না এই বিষয়টা কেমন ? যাহোক, আমার মনে হয় কোন বিষয় পড়ার আগে চিন্তা করা উচিত সেই বিষয়ে কী পড়ানো হয় এবং যা পড়ানো হয় তার জন্য কী কী Basic Knowledge থাকা জরুরী।
Applied Statistics এ পড়ার জন্য সবচেয়ে বেশী জরুরী হল Quantitative Analysis এর উপর দক্ষতা । আমি Mathematics না বলে Quantitative Analysis বলছি এ জন্য যে, Pure Mathematics বলতে যা বোঝায় এটা তা থেকে ভিন্ন । এছাড়া Student যদি নিজে খুব বেশী Logical না হয় তবে এ বিষয়টি পড়া তার জন্য খুব সহজ হবেনা ।
আমার মতে যাদের মধ্যে এই গুনগুলো আছে কেবল তাদেরই আসা উচিত Applied Statistics এ পড়তে । তাছাড়া ISRT (Institute of Statistical Research & Training) তে প্রচুর পড়াশোনার চাপ থাকে । Teacher রা এখানে খুব বেশী Friendly. এবার আসি মূল কথায় Applied Statistics এ পড়লে Carrier কেমন হতে পারে…
Applied Statistics / Statistics প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন । BCS থেকে Bank Job সবজায়গাতেই Applied Statistics এর জয়জয়াকার । বিসিএস (সাধারন), বিসিএস (পরিসংখ্যান), প্রভাষক (পরিসংখ্যান) নামে তিনটি Field এ Applied Statistics এর ছাত্ররা বিসিএস পরীক্ষায় Apply করতে পারে যার মধ্যে শেষের দুটি কেবল তাদের নিজস্ব । অন্যরা এক্ষেত্রে কেবল দুটি Field এ Apply করতে পারে । Private Bank গুলোতে Applied Statistics এর শিক্ষার্থীদের জয়জয়াকার । Bangladesh Bank এর AD (General) এর পাশাপাশি AD (Statistics) ও AD (Research) নামে আলাদা দুটি Field আছে যাতে Statistics/Applied Statistics/Economics ই Apply করতে পারে । যেকোন Research ধর্মী প্রতিষ্ঠান মানেই Applied Statistics/Statistics যেখানে ISRT এর শিক্ষার্থীদের ভীষন চাহিদা । ICDDR,B, NIPORT, AC Neilson সহ বড় বড় Research প্রতিষ্ঠানে Applied Statistics এর জয়জয়াকার ।
আসল কথাতো বলাই হয়নি, BBS (Bangladesh Bureau of Statistics) এরনিয়ন্ত্রঙ্কর্তাতো আমরাই সেটা বলাই বাহুল্য । এছাড়া ফ্রিল্যান্সার হিসেবে IT এর পরে Applied Statistics ই বেশী গুরুত্বপুর্ন । তবে মনে রেখ, ISRT এর শিক্ষার্থীরা এমনি এমনি শুধু তাদের Subject এর মাধ্যমে এ পর্যায়ে এসে পৌছায়নি । এই Department এর সকল শিক্ষার্থীই স্বভাবত ভীষন অধ্যবসায়ী, ভীষন পরিশ্রমী এবং নিসন্দেহে মেধাবী । Department তাদের এমন চাপ নিতে শিখিয়েছে যে কোন কিছুকেই তারা চাপ মনে করেনা । এমন একটি Department এ পড়ে আমি ভীষন গর্বিত । যদি প্রস্তুত থাক ; তবে Applied Statistics এ তোমাদের স্বাগতম ।
লিখেছেন
অরূপ দাস
ফলিত পরিসংখ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Lecturer (Statistics)
Asia Pacific University
Stamford University (খন্ডকালীন)

সাবজেক্ট রিভিউ : টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং

বস্ত্র প্রকৌশল বা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বর্তমান সময়ের অনেকের কাছেই একটি পছন্দনিয় বিষয় এবং ইদানিং কালে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করা যাচছে যে, বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বর্তমানে এই বিষয়ে বিদ্যা অর্জনে আগ্রহী কিন্তু অধিকাং ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় যেটা তা হল, এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ থাকে যারা কিনা এই বিষয় সম্পর্কে বেসিক কোন ধারনা পোষন না করেই নেহায়েত লোকমুখে প্রচলিত নিশ্চিত সুন্দর ভবিশ্যতের টানে এই বিষয়ে বিদ্যা অর্জনে আগ্রহী হয়। যারা একি সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছ সেই সাথে একটি মধুর বিড়ম্বনায় পড়েছ যে কোন বিষয়টা বেছে নিবে পড়ার জন্য তাদের উদ্দেশ্য করেই আমি চেষ্টা করব টেক্সটাইল ইঞ্জি্নিয়ারিং বিষয়ে বেসিক ধারনা দেবার যাতে করে তোমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া অনেকটা সহজ হয়।
প্রথমেই বলে নেয়া ভাল যে, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত ৪ টি বেসিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়। প্রক্রিয়াগুলো হলঃ
‪#‎ইয়ার্ন_ম্যনুফ্যাকচারিং‬ : আমরা সবাই জানি যে, একটা ্পোশাক এর মূল উপাদান হল সূতা এবং এই ধাপে প্রধানত কিভাবে ভাল এবং কোয়ালিটিফুল সুতা প্রসেস করে একটি ফ্যাশনেবল পোশাক বা যে কোন ধরনের গার্মেন্টস প্রডাক্ট তৈরী করা যায় সেটা নিয়ে বিষদ কাজ করা হয়।
‪#‎ফেব্রিক_ম্যানুফ্যাকচারিং‬: এই ধাপে মূলত সূতা থেকে কাপড় তৈরীর কাজ করা হয় এবং বেশ কিছু জটিল ধাপ অতিক্রম করে একটি কোয়ালিটিফুল কাপড় উতপাদন করাই এই ধাপের উদ্দেশ্য।
‪#‎ওয়েট_প্রসেসিং‬: এই ধাপে কাপড় কে পছন্দনীয় রং দেয়া হয় এবং অত্যন্তু নিখুতভাবে কাজটি করা হয় যেন কাপড় এর সাথে রঙ এর যে মিশেল সেটা অত্যন্ত টেকসই এবং গুনসম্পন্ন হয়। এই ধাপ মূলত রাসায়নিক প্রযুক্তি নির্ভর বলে এটাকে অনেকে টেক্সটাইল কেমিস্ট্রি বলেও আক্ষায়িত করেন।
‪#‎গার্মেন্টস_ম্যানুফাকচারিং‬: উপরোক্ত তিনটি ধাপ অতিক্রম করার পর এই ধাপে মুলত sampling, fabric spreading, cutting, sewing, washing(if necessary), finishing. করা হয় এবং যেই complete dress আমরা পরিধান করি সেটা কাপড় থেকে পুরো ফিনিশিং প্রসেস পর্যং ধাপগুলা এই গারমেন্টস ম্যানুফাকচারারদের ই অবদান।
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, একটা সুন্দর কাপড় যেটা কিনা আ্মরা YELLOW বা CATS EYE বা বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ড থেকে শুধুমাত্র পকেট এর টাকা খরচ করেই কিনে ফেলছি এবং সেটা পরে বিভিন্ন পার্টিতে বা বন্ধুমহলে ঘুরে বেড়াচছি সেটার পেছনে কত লোকের শ্রম জড়িত শুধু তাই নয় পুরো প্রক্রিয়া কিন্তু একজন দক্ষ বস্ত্র প্রকৌশলীর সু্নিপুন দিকনির্দশনা বা দক্ষতা ছাড়া অসম্ভব।
এখন শুধু পোশাক বানিয়ে বসে থাকলেই ত আর হবে না বরং এর জন্য দরকার ব্রান্ডিং এবং আমদের তৈরী পোশাক কে বিদেশের মাটিতে উপস্থাপন করা, যাতে করে সারা বিশ্বের মানুষ "made in Bangladesh" ট্যাগ চিহ্নিত পোশাক পরতে পারে এবং আমরা ইতিমধ্যেই সবাই জানি যে, এই তৈরী পোশাক ই আমাদের রপ্তানীর মূল অস্ত্র এবং এইটার উপর ভর করেই কিন্তু গোটা অর্থনীতি এতটা শক্ত অবসথায় দাঁড়িয়ে আছে। তাই একজন বস্ত্র প্রকৌশলী হওয়া মানে কিন্তু সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখার সৌভাগ্য অর্জন করা। আর এই তৈরি পোশাক কে ফ্যাশনেবল করা এবং একটি সুন্দর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ সময়ের মধ্যে রপ্তানী করার জন্য আরও দুটি শাখা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে জড়িত আর তা হল-
1. ফ্যাশন ডিজাইনিং: এই বিষয়ে সবার ই কমবেশি ধারনা থাকায় বিস্তারিত বলার প্রয়োজন মনে করছি না।
2. টেক্সটাইল ম্যনেজমেন্ট : গোটা টেক্সটাইল প্রসেস সম্পন্ন করার পর সেটাকে সম্পূর্ন নিরাপদে রপ্তানি করে ক্রেতার কাছে পৌছে দেবার মধ্যবর্তী সময়ে যে ধাপ গুলা অতিক্রম করতে হয় সেই ধাপ গুলোই এই বিভাগের উপজীব্য বিষয়। production process supervision, quality controlling, inventory process monitoring, facilitating marketing process, সহ আরও বিষয়গুলো এই বিভাগের সাথে জড়িত।
সারকথা হল একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারকে উপরোক্ত ৬ টি বিষয়ের উপরেই সমানভাবে পারদর্শী হতে হয় কারন তার উপর ই ত নির্ভর করে " made in Bangladesh" ট্যাগের সার্থকতা আর সফলতা।
এতখন বলছিলাম পুরা প্রসেস এর কথা, এখন বলব এই বিষয়ে অধ্যায়ন করে ভবিশ্যতে কোথায় কিভাবে ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে আমার বন্ধু শুভা জাহিদ এর একটা লেখা না শেয়ার করলেই নয়। আশা করি তার দেয়া তথ্যগুলো ক্যারিয়ার নিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে। লেখাটি হুবহু তুলে দেয়া হলঃ
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার দের কাজ কী, এরা আসলে কি করে, কেনই বা এদের কে উচ্চবেতনে চাকরি দেয় টেক্সটাইল শিল্পমালিক রা। অনেকেই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নাম শুনলেই নাক সিটকান, বলেন এইটা কোন ইঞ্জিনিয়ারিং হইল, কাপর-চোপরের আবার কিসের ইঞ্জিনিয়ারিং? শতকরা ৮০ভাগ লোকই জানেন না যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরি মানে কাপর-চোপরের ইঞ্জিনিয়ারিং না। এটি সম্পূর্ন ম্যানুফ্যাকচারিং বেসড একটি প্রসেস যেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ার কে মেশিন সেটাপ থেকে শুরু করে প্রসেস কন্ট্রোল, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট , গিয়ার মেকানিসম এবং মেইন্টেনেন্স নিয়ে কাজ করতে হয়। স্পিনিং এর ইঞ্জিনিয়ার দের প্রোগ্রাম ইনপুট দেয়া জানতে হয়। ওয়েট প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ার দের প্রথম সারির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। নাসার বিজ্ঞানিরা যারা দীর্ঘদিন যাবত মহাকাশে মানুষ পাঠাতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা অসংখ্য টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার দের গবেষনায় নিযুক্ত করে স্পেস স্যুট এবং ন্যানোফাইবার, কার্বন ফাইবারের শিল্ড তৈরীর জন্য। অতি সম্প্রতি বুয়েট নন-ওভেন জূট টেকনোলজী কে জিও টেক্সটাইল হিসেবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজে ব্যবহার শুরু করেছে, আগামিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়মিত বিষয় হিসেবে যখন জিও-টেক্সটাইল পড়ানো হবে তখন এই কোর্সের জন্য বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার দেরকেই শিক্ষক হিসেবে পাবে তারা। সত্যি বলতে কী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টের সাথে সব চেয়ে বেশি মিল রয়েছে আইপিই ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে।
যাই হোক, পেশা হিসেবে অনেকের অ্যালার্জি থাকলেও বাংলাদেশে একমাত্র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার রাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে " মেইড ইন বাংলাদেশ " ট্যাগ এ ব্র্যান্ডিং শুরু করেছে। বিশ্বের ২য় বৃহত্তম জিন্স ব্র্যান্ড এইচ এন্ড এম শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকেই বছরে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার মুল্যের পন্য নিয়ে থাকে, আজ আমরা যারা হলিউডের মুভি দেখে অভ্যস্ত তারা কয়জনে জানি এই সব নামীদামি সেলিব্রেটিরা বাংলাদেশ এর নাম কে এক্টি ব্র্যান্ড হিসেবে জানে? ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রেড ওয়ান জার্সি , ন্যাটোর ক্যামোফ্লেজ ড্রেস থেকে শুরু করে ডিজেল, রিবক, নাইকি, পুমা কারা নির্ভর করে না এই দেশের টেক্সটাইল প্রোডাক্ট এর উপর? আর যারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ কে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করেছেন তারা এই দেশের ই টেক্সটইল ইঞ্জিনিয়ার রা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ কে টেক্সটাইল সেক্টরের পরবর্তি চীন হিসেবে ঘোষনা করেছে।
এই হল বস্ত্র প্রকৌশল বিষয়ে সারসংক্ষেপ। যারা এই ব্যাতিক্রমধর্মী কিন্তু অত্যন্ত সম্মানিত এই বিষয়ে পড়তে চাও তাদের জন্য আশা করি কিছুটা হলেও ধারনা দিতে পারবে এই লেখাটি। বলা যায় না হয়ত তুমি ই হতে পার সেই যার ডিজাইন করা পোশাক পরে তোমার ই প্রিয় কোন খেলোয়াড় তোমার ই সামনে কোনদিন উপস্থিত হতে পারে।
so think different, be different.
লিখেছেন -
ফাহাদ মাহমুদ
শিক্ষার্থী, ৩৬ তম ব্যাচ
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়

Subject Review - Pharmacy

“Study in pharmacy and fly to America’’ – এমনই একরকম স্লোগান চালু হয়ে যায় ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগ প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন ৩ টি বিভাগ নিয়ে গঠিত ফার্মেসী অনুষদ। প্রথম দিককার বেশীরভাগ ফার্মাসিস্টরাই পাড়ি জমান আমেরিকায় ও মধ্যপ্রাচ্যে। আবার কেউ কেউ কানাডা, ইউকে বা অস্ট্রেলিয়ায়। বাকিরা যারা দেশে আছেন তাদের হাত ধরেই সামনের দিকে এগুতে থাকে আমাদের ওষুধ শিল্প। পরবর্তীতে ফার্মেসী বিষয়টি খোলা হয় জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদার ৯৭ ভাগই বাংলাদেশে তৈরি হয় আর রপ্তানি করা হয় বিশ্বের প্রায় ৮৭ টি দেশে। আগামী ১০ বছরে মধ্যে ওষুধ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য বা পথ্য। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের এই উৎকর্ষ যাদের হাত ধরে সাধিত হয়েছে তারা হচ্ছেন ফার্মাসিস্টরা।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ফার্মেসী পড়ানো হয় ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, খুলনা, জগন্নাথ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (আরও ২/১ টা থাকতে পারে!)
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক, স্টেট, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট, ব্র্যাকসহ আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে।
কি পড়ানো হয় ফার্মেসীতে? ফার্মেসীতে যা পড়ানো হয় তার মধ্যে রয়েছে রসায়ন (inorganic/organic/physical/Analytical/Medicinal chemistry), মানবদেহ (Physiology/Anatomy), ওষুধবিদ্যা(Pharmacognosy / Pharmacology / Pharmaceutical technology / Quality control / Pharmaceutical Engg / Biopharmaceutics), লাইফ সাইন্স এর অন্যান্য বিষয় (Microbiology / Biochemistry / Biotechnology) ও Hospital pharmacy / Clinical pharmacy, Statistics সহ আরও কিছু বিষয়। এত বিষয় দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে এসব বিষয় পড়তে হলে জীববিজ্ঞান (মানবদেহ) ও রসায়নে ভাল হতে হবে।
সবাই যেটা জানতে চাই, আসলে চাকরীর অবস্থা কি ? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করে খুব একটা কেউ বেকার থাকে না। তবে ফার্মা ফিল্ডে চাকরী বেশ saturated হয়ে যাচ্ছে। দেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী পড়ানো হয়,তাই অনেকেই শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেয়। মোটামুটি ভাল রেজাল্ট নিয়ে ভাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হতে পারলে শিক্ষকতায় ঢোকা ব্যাপার না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ফার্মা ফিল্ডে কাজ করছেন। তবে অনেক বেশী ছাত্র যেহেতু বের হচ্ছে তাই ভাল/প্রথম দিকের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসীতে চান্স না পেলে ফার্মেসী পড়ার আগে একবার চিন্তা করে দেখা উচিত।
দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কেমন?
একসময় প্রচুর ফার্মাসিস্ট বাইরে যেতেন। ২০০৩ সালের পর আমেরিকায় ৪ বছরের অনার্স ডিগ্রীধারীদের ফার্মাসিস্ট নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে দিচ্ছে না। অর্থাৎ কেউ যদি আমেরিকায় ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে চান তার ৫ বছরের অনার্স লাগবে বা ফার্ম ডি লাগবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০১০-১১ সেশন থেকে ৫ বছরের অনার্স চালু হয়েছে। এখানে একটা ব্যাপার ক্লিয়ার করা উচিত। আমাদের দেশে বেশিরভাগ ফার্মাসিস্ট যেমন ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন তেমনি বাইরের দেশে বেশিরভাগ ফার্মাসিস্ট কমিউনিটি, রিটেইল, ক্লিনিক বা হসপিটাল ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেন আর তার জন্য লাইসেন্সধারী ফার্মাসিস্ট হতে হয়। আর ৪ বছরের অনার্স নিয়ে আমেরিকা ছাড়া অন্য যে কোন দেশে গিয়ে নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তবে আপনি পিএইচডি করতে চাইলে আমেরিকা যেতে পারেন। আমেরিকায় ফার্মেসী পড়ায় এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অন্যান্য বিষয়গুলোর তুলনায় কম হলেও প্রচুর ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার্থে(মাস্টার্স/পিএইচডি) করতে আমেরিকা, ইউকে সহ অন্যান্য দেশে যাচ্ছেন।
অনেকেই বিসিএস দিয়ে আবার সরকারী চাকরীতেও যাচ্ছেন। কেউ হয়ত খেয়াল করে থাকতে পারেন এবার ৩৩ তম বিসিএস এ সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন একজন ফার্মেসী গ্র্যাজুয়েট!
ফার্মেসী পড়ার একটা সুবিধা হল এ বিষয়ে পড়ে আপনি উচ্চশিক্ষার্থে লাইফ সাইন্স এর যেকোনো দিকে সুইচ করতে পারবেন। তাই আমার মতে যারা লাইফ সাইন্স পড়তে চান তাদের ফার্মেসী প্রথম চয়েজ হওয়া উচিত।
ওষুধবিজ্ঞান উপভোগ করতে পারলে ভাল লাগবে অন্যথায় হতাশ হতে হবে। তবে পড়লে ভাল করে পড়তে হবে। এবার যারা ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসীতে আসছেন তাদেরকে ওয়েলকাম। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ফার্মেসীতে ভর্তি হচ্ছেন তাদেরকে ফার্মাসিস্ট জীবনে স্বাগতম!

Subject Review - Building Engineering & Construction Management (BECM)

দালান তৈরি হল মানুষের আদিম সভ্যতার একটি শিল্প । সভ্যতার প্রথম থেকেই মানুষ তাদের বাসস্থান সম্পর্কে ভেবে এসেছে । সেকারণে এটা মানুষের কাছে আদিম কাল থেকেই একটি অতি চমকপ্রদ শিল্প । যাহোক এটা Civil Engineering এর একটি শাখা ।
KUET এবছর থেকে বাংলাদেশে প্রথম এই বিষয়টি চালু করেছে । 2K13 ব্যাচ প্রথম এটা পড়তে যাচ্ছে ।
as the name is Building Engineering & Construction Management, এটি বুঝায় সংক্ষেপে :
১ । বাড়ি করতে ভুমি জরিপ করা ।
২ । বাড়ির planning করা (with architectural view)
৩ । beam ,column , slab ইত্যাদি সহ বাড়ির বিস্তারিত ডিজাইন অর্থাৎ কটটুকু রড লাগবে , সিমেন্ট , বালি , পানি , ইট ইত্যাদি লাগবে এসব কিছুর ডিজাইন করা ।
৪ । বাড়ির প্লান অনুযায়ী estimation করা অর্থাৎ কতো টাকা লাগবে বাড়ি তৈরি করতে , শ্রমিক খরচ , নির্মাণ সময় হিসাব করা এবং অবশ্যই সাধ্যের মধ্যে নির্মাণ খরচ রাখা ।
৫ । construction management বলতে বুঝাই নির্মাণ স্থলে সুষ্ঠুভাবে কাজ দেখাশোনা করা এবং কোনরকম দুর্ঘটনা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা ।
সাধারন ভাবে BECM তে শেখানো হবে construction technique of a structure & the problem associated with it. এখানে শেখানো হবে foundation design , structural design যেমন slab design , roof design , column failure , ভিতকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করার পদ্ধতি সহ আরও অনেক কিছু ।
higher study এর ক্ষেত্র ও এখানে অনেক । যেমন BSc BECM থেকে করে MSc করা যাবে Structural Engineering , Foundation Engineering , Building Management , Construction Management, Construction Project Management, Sustainable Management, Construction Law and International Construction Management, Civil Engineering and Construction Management সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ।
private sector গুলোতে যেমন বাড়ি নির্মাণ ও দেখাশুনা করা , real estate company ( housing estate ) , নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তে , গণপূর্ত বিভাগে , স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে ও আংশিক কাজের ক্ষেত্র আছে । অর্থাৎ এদের major job sector হল real estate company গুলো , এছাড়া সরকারি ক্ষেত্রে আংশিক ভাবে গণপূর্ত , স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে কাজ আছে । This is an age of developing world by showing its sky scraper. So , the world needs more Civil Engineer having a good knowledge about building construction. If they got a person who is very expert both in designing & management , it will be having like gold cup with silver spoon for them. So, it is clear that the job field is quite bright.
সবশেষে বলতে চাই , বাংলাদেশে এই প্রথম এই বিষয়টি চালু করেছে যেটি একই সাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং Management এর এক মেলবন্ধন । so , নির্দ্বিধায় তোমরা BECM নিয়ে জীবন গড়তে পারো ।
লিখেছেন
মোঃ শফিকুল আলম
শিক্ষার্থী, পুরকৌশল বিভাগ
কুয়েট

Subject review - IT (Information Technology)

- বন্ধু, কি করিস?
- মোবাইল এ গেমস খেলি ।
- কি গেমস দেখি ? মজার তো । কোন ওয়েবসাইট থেকে নামাইসিস ?
- আমি বানাইসি ।
- কি ? সত্যি ?
- হুম , আর কত অন্যের বানানো গেমস খেলবো । এখন আমার গেমস সবাই খেলবে ।
হ্যা। ঘটনাটি সত্যি। এরকম চমৎকার অনুভুতি জন্ম দিতে পারে একমাত্র যে সাবজেক্টটি তা হল আইটি।
আমাদের পাশের দেশ ভারত বর্তমানে এশিয়ায় সফটওয়্যার রপ্তানিতে শীর্ষে । আমাদের দেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। আমাদের দেশকেও এই ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যে প্লাটফর্ম দরকার ছিল তা দেশে সর্বপ্রথম চালু করল IIT(Institute of Information Technology ) DU. IIT থেকেই প্রথম দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সার্টিফিকেটধারি (BSc in Software Engineering-BSSE ) মানে তুমি পাশ করলে তোমার প্রথম পরিচয় হবে তুমি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার । আইটি পড়তে হলে অবশ্যই কিছু জিনিস তোমার মাঝে লালন করতে হবে । সৃজনশীল মানসিকতা, ধৈর্য, সাধনা, চেষ্টা এবং চিন্তাশক্তি ।
প্রথম ভালবাসা হোক প্রোগ্রামিং । প্রোগ্রামার যেভাবে বলবে কম্পিউটার সেভাবেই কাজ করতে বাধ্য । শুধু ঘরে বসে আউটসোর্সিং করে বড়লোক হওয়াই তোমার উদ্দেশ্য নয়। তোমার চিন্তা থাকবে তুমি প্রোগ্রামিং শিখতে চাচ্ছো কারণ বাংলাদেশ যখন চন্দ্রযান পাঠাবে তার নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম লিখবে তুমি, অথবা তুমি ছোট্ট একটা রোবট বানাতে চাও যেটা তোমার টুকিটাকি কাজ করে দেবে। তুমি চাও লক্ষকোটি টাকা দামে বিদেশ থেকে আনা জীবন রক্ষাকারী মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট কম খরচে দেশে বসেই তৈরি করতে । তুমি এমন একজন এক্সপার্ট হতে চাও যে বিভিন্ন কল কারখানা অটোমেটেড করে ফেলতে পারে। অথবা তুমি চাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা করতে… (এই তালিকা অনেক বড় হতে পারে)
অনেক ভাইয়ারা আছেন যারা হয়তবা এসব মটিভেশন থেকেই এক বসায় সারারাত code করে কাটিয়ে দেন । ল্যাব থেকে বের হতে হতে রাত ৬টা – ৭ টা বেজে গেলেও এটাই স্বাভাবিক – এমন প্রস্তুতি নিও । পুরো বছরধরেই কোনো না কোনো প্রোগ্রামিং কনটেস্ট চলতে থাকে । যেমন ACM-ICPC contest(https://www.facebook.com/ICPCNews ), DUITS, IUT national contest , BUET CSE week etc. বিভিন্ন ভার্সিটি এর স্টুডেন্টদের সমন্বয় এবং নিজেকে যাচাই করা, অন্য কোনো সাবজেক্ট এ পড়লে এভাবে সম্ভবপর হয়না ।
আমি যদি তোমাকে প্রশ্ন করি গুগল কিভাবে লাখ লাখ ওয়েবসাইট থেকে চোখের পলকে দরকারি ডাটা খুজে এনে তোমাকে দেয় ? তুমি কি উত্তর দেবে ??? উত্তর দেবার জন্য তোমার ভাবতে হবে, ভাবার ইচ্ছা থাকতে হবে , তোমার ধৈর্য থাকতে হবে । হা এটা যদি তোমার থাকে , তোমাকে আইটি তে স্বাগতম । এরকম অনেক এলগরিদম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটা কাজ নিয়ে পরে থাকার মত প্যাশন থাকতে হবে । নতুন নতুন আইডিয়া মাথার মধ্যে সবসময় ঘুরপাক খাওয়াতে হবে । বের করে নিয়ে আসতে হবে বেস্ট এর মধ্যে বেস্ট আইডিয়া টা । একটা আইডিয়া তোমার লাইফ এর জন্য মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে । Microsoft imagine cup, Banglalink grandmaster, Robi challenge এরকম কিছু আইডিয়া seeking campaign.
মুখস্ত বিদ্যা নিয়ে এই সাবজেক্ট এ খুব বেশি দূর যাওয়া যায়না । স্টেপ স্টেপ এ logic and innovation অ্যাপ্লাই করতে হবে । কারো যদি গণিত , পদার্থ ভালো লাগে তার জন্য আইটিতে ভালো করা সহজ হয়ে যায় । তোমার রেজাল্ট যদি খারাপও থাকে কিন্তু তুমি যদি creative and passionate হও তোমাকে কেউ আটকাতে পারবেনা , এটা যেকোনো আইটি স্টুডেন্ট এর কাছ থেকে গ্যারান্টি পাবা । এ জন্যই মনে হয় ভার্সিটি লাইফ এ গিয়ে বড় ভাইদের কাছ থেকে প্রথম Bill Gates এর কথাটাই শুনেছিলাম “I failed in some subjects in exam, but my friend passed in all. Now he is an engineer in Microsoft and I am the owner of Microsoft.' ”
ফেসবুক কিভাবে এত মানুষের তথ্য সংরক্ষণ করে? এলোমেলো ভাবে সংরক্ষণ করলে তাড়াতাড়ি খুজে পাওয়া সমস্যা, তাই তথ্য সংরক্ষণ করার নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক আছে। এজন্য রয়েছে ডাটাস্ট্রাকচার ও ডাটাবেস । অ্যানিমেটেড মুভিতে বা গেমসে আমরা যে এত সুন্দর ছবি দেখি তার জন্য রয়েছে গ্রাফিক্স । কিভাবে মোবাইলে communication ,computer communication, মেইল আদানপ্রদান , facebook এ মেসেজ চালাচালি এসবের জন্য নেটওয়ার্কিং ।
বিভিন্ন co-curricular activities অংশ নিতে পারো । Microsoft Bangladesh এর নানা কার্যক্রমে তুমি অংশগ্রহন করতে পারবে Microsoft student partner হবার মধ্যদিয়ে । BASIS সফটওয়্যার মেলার আয়োজন করে, ওখানে volunteer হতে পারবে । বিভিন্ন international journal এ তোমার research paper পাঠাতে পার । accepted হলে ওরা তোমাকে তাদের দেশে আমন্ত্রন জানাবে । Google apps e তোমার বানানো apps store করতে পারো ।
দেশে প্রথম Microsoft তাদের windows phone এর জন্য apps তৈরির আয়োজন করেছিলো apathon , যেখানে একদিনে ৮০ টির বেশি app তৈরি হয়েছিল এবং এর venue ছিল IIT DU । বাংলাদেশি বংশভুত অস্কার বিজয়ে নাফিস সে কিন্তু একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার । অনেকের প্রশ্ন থাকে ভাইয়া আইটি সেক্টরে জব কেমন ? এখন আইটি এর যুগ । সবার মুখে মুখেই এই কথা শোনা যায় । তুমি কাজ জানলে তোমার জব খোজাঁ লাগবেনা, জব তোমাকে খুজঁবে । Giant organization যেমন Microsoft, Google আমাদের দেশের ভাইয়ারা গর্বের সাথে জব করছেন । Google, Samsung এরা প্রায়ই campus এ এসে recruitment এর আয়োজন করে থাকে । বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠিত আইটি ফার্ম রয়েছে , অনেক মোবাইল কম্পানি , অনেক multinational IT firm আছে ।
তোমার আগ্রহ থাকলে ফ্রীল্যানসার হতে পারবা । প্রতিষ্ঠিত এরকম অনেক ফ্রীল্যানসার উদাহারন তোমার আশে পাশেই আছে । নিজের আইটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পার । গাজিপুর এ আইটি ভিলেজ হতে চলেছে । দেশের বাইরে চাইলে চলে যেতে পারবা ।
নিজের আগ্রহের বিষয়ে ( programming, , web design, networking, database developer, freelancing…. ) দক্ষতা অর্জন করা প্রথম কাজ ।
So , জব নিয়ে পরে চিন্তা করলেও হবে । ইন্টারমিডিয়েটে আইটি সাবজেক্ট পড়ানো শুরু হয়েছে অনেকেই তোমরা জানো ।
কিছু প্রশ্ন অনেকের মনে চলে আসে । ভাইয়া IT আর ICT কি এক ? এক কথায় উত্তর দিলে এক । JU তে বর্তমানে IIT আছে । RU তে ICT । তবে degree কি রকম দেয়া হয় তা জানা নেই ।
মুল প্রশ্ন হল এটা : ভাইয়া IT আর CSE এর মধ্যে পার্থক্য কি ? বিদেশে অনেক আগে থেকেই কম্পিউটার সাইন্স আর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং দুটি আলাদা শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত । আমাদের দেশে ধারনাটি নতুন । CSE এর কাজ হচ্ছে CS tools গুলোকে ডেভেলপ করা আর IT এর কাজ হচ্ছে CS tools গুলোকে প্রপারলি utilize করা (একটু কঠিন মনে হচ্ছে !! ) IT is a specialized stream of CSE। আমার মতে IT আর CSE জমজ ভাই । একজনের জন্ম আগে, একজনের পরে ।
আমি IIT DU আর CSE DU দিয়ে হাল্কা ধারনা দিচ্ছি :
IIT এর বিশেষত্ত হচ্ছে এখানে তোমাকে নরমাল course গুলোর সাথে আলাদা কিছু specialized course করতে হবে যেখানে সফটওয়্যার প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে, simply সফটওয়্যার বানাতে হবে ( পুরো ৬ মাস + ৬ মাস = ১২ মাস ) । IIT এর আর একটি বিশেষ দিক ( যেটার কথাও CSE এর অনেকেই বলবে ) হচ্ছে তোমাকে ৬ মাস industry তে জব ( interne ) করতে হবে ( with salary ). এটা course এর অংশ । কিছু ভাইয়ারা ওখানেই join করে ফেলে , ফলে ৪র্থ বর্ষ এর ক্লাস করতে আসতে চাননা । তাদের স্যাররা জোর করে ধরে নিয়ে আসে ।:p
IT আর CSE এর course গুলো অধিকাংশই মিল আছে । ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেয়া আছে (http://www.iit.du.ac.bd/index.php?id=48 ) । IT তে অন্যান্য কোর্স এর পাশাপাশি SE কে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ।
গত বছর DU ক list এ IT 2nd e fill up হয়ে গিয়েছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম এবং ল্যাব তো আছেই (multimedia, document camera system and Internet facilities) আমরা IT আর CSE এর বন্ধুরা একসাথে বসেই চা খাই, আড্ডা দেই , আইডিয়া শেয়ার করি । ল্যাব এ download speed পাওয়া যায় ৪-৫ এমবিপিএস যেটা অনেকের কল্পনার বাইরে । আমরা যারা দুষ্টু তারা LAN এ বসে বসে FIFA, Need For Speed খেলি। আমরা কিন্তু গতবারের DU ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন আর বাস্কেট বল রানার্স আপ অনেক কম্পানি প্রায় এখানে সেমিনার এর আয়োজন করে থাকে ।
যারা ঢাকায় থাক তারা চাইলে DU তে মুকাররম ভবনে এসে আমাদের সাথে এমনকি স্যারদের সাথেও কথা বলে যেতে পারো। u r welcome.
সব শেষে একটা কথা বলব । যে সাবজেক্ট নিয়েই পড় না কেন , তা সম্পর্কে আগে খোজঁ নেও কি কি পড়ানো হয় এবং যদি সত্যি সেগুলো তোমার ভাল লেগে থাকে তাহলেই সেই সাবজেক্ট এ ভর্তি হও । কোনটা ১ নাম্বার সাবজেক্ট , কোনটা ২ নাম্বার , এটার চেয়ে ওটা ভাল এভাবে বিচার না করে , সেটাই ভাল সাবজেক্ট যেটা তোমার কাছে ভাল এভাবে চিন্তা কর । মানুষের তৈরি এই বিভাজন অনুসরন করে নিজের সাথে প্রতারনা করোনা ।
শুভ কামনা
Arafat Zaman Anik
BSSE 4th Batch
IIT, University of Dhaka

Subject Review - Physics

বর্তমান বিশ্বে সবকিছুতেই যেখানে মানুষ শর্টকাট খোঁজে সেখানে চাকুরী,উন্নতি বা সফলতার ক্ষেত্রেও যে মানুষ শর্টকাট খুজবে সেটাই স্বাভাবিক।আর তাই মৌলিক বা পিওর বিষয়গুলির প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে।অথচ আমাদের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কি কেবল চাকুরী পাওয়া? শিক্ষা মানুষের মনকে উন্নত করার জন্য, এই উদ্দেশশে যারা শিক্ষা লাভ করেছে তারাই রয়ে গেছেন চিরস্মরণীয়, চিরবরণীয় হিসেবে। পদার্থবিজ্ঞান বিজ্ঞান এর সেই মৌলিক শাখা যা সম্পূর্ণ জগতকে গনিতের ভাষায় নতুন করে চিত্রিত করতে শিখায়,শিখায় জগতকে নতুন আঙ্গিকে দেখতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯২১ সালে।সে সময় থেকে এ বিভাগ ঢাবির একটি প্রথম সারির বিভাগ। Bose-Einstein Statistics এর জন্মদাতা এই বিভাগ। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পড়তে আসা স্টূডেন্টদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ঠ হলো গানিতিক দক্ষতা,উচ্চতর সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং যে কোন বিষয় সম্পর্কে সহজে বুঝতে পারার ক্ষমতা,যা তাদের পরবর্তী জীবনে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বের মস্ত বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে গিয়ে কেবল পড়াশুনাই করে নাই, শিক্ষকতাও করেছে। জগতের সবচেয়ে বড় গবেষণা সংস্থাগুলোতেও(CERN,NASA) কাজ করেছে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাই।
এবার আসা যাক দেশীয় চাকরির বিষয়ে।দেশের কথা বললে বর্তমানে বাংলাদেশ শিক্ষকতা পেশায় সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন বিভাগ পদার্থবিজ্ঞান।সেটা ইউনিভার্সিটি হোক,কলেজ হোক আর স্কুল হোক।বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সবখানেই প্রকৌশল বিষয় পড়ানো হয়।সেখানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবশ্যক।এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে চাকরিক্ষেত্রেও নিজেকে বিকশিত করবার অনেক সুযোগ থাকে।
তাই সবাইকে এতটুকুই বলব জীবনতো একটাই, কেন আমরা এই জীবনকে কেবল ক্ষুদ্র চাকুরীর চিন্তায় আবদ্ধ রাখবো? নিজেকে জিজ্ঞেস করো, তোমার মস্তিষ্কটাকে কি এইভাবেই বৃথা যেতে দিবে? তাকে কি দেখতে দিবে না কি অসাধারণ প্রতিসাম্য(Symmetry) বিরাজমান এই জগতে? তাকে কি কাজে লাগাবে না মহা একীভূত ক্ষেত্রতত্তের(Grand Unified Field Theory) দিকে আগাতে? আর একটা কথাই বলব, পদার্থবিজ্ঞান পড়ে কেউ না খেয়ে মরবে না, এতটুকু জেনে রেখো। আমার এই লিখা পড়ে কেউ যদি বলে আমি পদার্থবিজ্ঞান পড়ব, তবেই আমার পরিশ্রমটুকুকে সার্থক মনে করব।
ওয়াসিফ আহমেদ
শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Subject Review - উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany)

আমাদের মৌলিক চাহিদা ৫টি; খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। এদের মধ্যে প্রথম ৩টি সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে উদ্ভিদজগত। এছাড়াও ৪র্থটিরও সিংহভাগ আসে উদ্ভিদজগত থেকে।
উদ্ভিদবিজ্ঞান-বিষয়টির নাম শুনলেই মনে হয় যে শুধুমাত্র গাছপালা নিয়ে যে পড়াশুনার মাঝেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ। কিন্তু, আসলে ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। শুধুমাত্র গাছপালা নিয়েই পড়াশুনার মাঝে এই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। এই বিষয়টির অধীনে রয়েছে বিশাল এক ক্ষেত্র। এক নজরে দেখে নেয়া যাক সম্মান তথা, অনার্স কোর্সটিতে আসলে কোন কোন দিক নিয়ে পড়াশুনা করানো হয়-
1. Microbiology
2. Mycology
3. Phycology
4. Higher Cryptogams
5. Angiosperms Taxonomy
6. Biodiversity
7. Basic Biochemistry
8. Gymnosperms
9. Economic Botany
10. Paleobotany
11. Plant Anatomy
12. Plant Ecology
13. Cytology
14. Plant Physiology
15. Classical Genetics
16. Plant Breeding
17. Biostatistics
18. Soil Chemistry and Soil Fertility
19. Plant Pathology
20. Plant Biochemistry
21. Molecular Genetics
22. Limnology
23. Cytogenetics
24. Embryology of Angiosperms
25. Plant Nutrition
26. Ethnobotany
27. Horticulture
28. Plant Biotechnology
29. Bioinformatics
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স এ রয়েছে ২টি পৃথক শাখা।
1. Biotechnology
2. Environmetal Biology
এই শাখা ২টির অধীনে Plant Genetic Engineering, Plant Biotechnology, Plant Tissue Culture, Microbial Genetics, Molecular Genetics, Microbial Biotechnology, Environmental Microbiology,
Cytogenetics, Plant Pathology, Seed Pathology, Applied Mycology, Applied Phycology, Hydrobiology, Ecology, Advanced Physiology, Limnology, Taxonomy, Ethnobotany, Medicinal and Herbal Plants
প্রভৃতি এর মত যেকোনো একটি ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের এবং বিশেষজ্ঞ হবার অবারিত সুযোগ রয়েছে এই বিভাগে।
যাদের একান্ত ইচ্ছা ছিল Microbiology, Biotechnology অথবা Genetic Engineering এর মত বিষয়গুলোতে অধ্যয়ন করার তারা উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে মাস্টার্স বা আরও উচ্চতর ক্ষেত্রে- দেশে এবং দেশের বাইরে এসব বিষয়ে অধ্যয়ন করার এবং বিশেষজ্ঞ হবার সহজ সুযোগ পাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে শীততাপ
নিয়ন্ত্রিত মাল্টিমিডিয়া সুবিধা সম্বলিত আধুনিক শ্রেণীকক্ষ, সেমিনার পাঠাগার, উন্নত সুবিধাযুক্ত পরিচ্ছন্ন গবেষণাগার।
এবার আসছি অত্যন্ত জরুরি এবং সর্বাধিক আলোচিত প্রসঙ্গে,এই বিষয়ের ভবিষ্যৎ কি? পড়াশুনা শেষে কি ধরণের কাজ পাওয়া সম্ভব এই বিভাগ থেকে পাস করে? যেহেতু এটি একটি মৌলিক গবেষণাধর্মী বিষয় সুতরাং, এর প্রধান ক্ষেত্র অবশ্যই গবেষণা। এছাড়াও চা-বাগান, রাবার বাগান, বন ও পরিবেশ বিভাগ, বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্র (ধান, পাট, ইক্ষু ইত্যাদি) গুলোতে, বিভিন্ন ওষুধ তৈরির কোম্পানিগুলোতে (RND sector), মাশরুম উৎপাদন কেন্দ্র, বীজ উৎপাদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ থাকেই। এছাড়াও শিক্ষকতা এবং বিসিএস এর দুয়ার তো খোলা থাকছেই।
লিখেছেন-
মাহমুদ হাসান কল্লোল
শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

"সময়ের চাহিদা নিউক্লিয়ার প্রকৌশল"

সম্প্রতি রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজ শুরুও হয়ে গেছে পুরোদমে। দেশে খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আরো কিছু পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র। তাই পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে খুব দ্রুতই প্রয়োজন হতে যাচ্ছে দক্ষ ও মেধাবী নিউক্লিয়ার প্রকৌশলীদের। সেই লক্ষ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির পাশাপাশি এ বছর থেকে চালু হয়েছে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি (সম্মান) কোর্স।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর দেড় বছর মেয়াদি এমএস কোর্স চালু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। সময়ের চাহিদা মেটাতে এ বছরই তাই পথ চলা শুরু হলো নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি (সম্মান) কোর্সের। এ বিভাগের আসনসংখ্যা ২৫, নিয়মানুযায়ী যা পূর্ণ করা হবে ‘ক’ ইউনিট থেকে।
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে থাকা এ বিষয় সম্পর্কে অনেকেরই রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী মনন জানান, নতুন বিষয় হওয়ায় আগ্রহের কারণে তিনি পছন্দের তালিকায় নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এক নম্বরে রেখেছেন। প্রায় একই রকম কথা জানান ‘ক’ ইউনিটে সুযোগ পাওয়া মঈন। তাঁর ভাষায়, ‘পরমাণু শক্তি নিয়ে কাজ করা ও পড়ার সুযোগটি একদমই নতুন। তাই এ ব্যাপারে আগ্রহ থেকেই বেছে নিয়েছি নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং।’
মূলত পরমাণু শক্তি নিয়ে কাজ করলেও স্বাস্থ্য পদার্থবিজ্ঞান, তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ, শক্তিবিষয়ক গবেষণা, পারমাণবিক মেডিসিন—এসব বিষয়েও কাজ ও গবেষণা হয়ে থাকে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। আপাতদৃষ্টে বাংলাদেশে চাকরি অপ্রতুল মনে হলেও, সামনের কিছুদিনে দেশে বিভিন্ন পারমাণবিক প্রকল্প, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ উন্নত গবেষণায় দেশের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেবে, এমনটাই আশা করছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।
নতুন এই বিভাগের চেয়ারপারসন হিসেবে রয়েছেন খোরশেদ আহমেদ কবীর। প্রকৌশল অনুষদের নবীন এই বিভাগকে পূর্ণভাবে বিকশিত করতে আন্তরিকভাবে ল্যাব-সুবিধা প্রদান করছে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন।
(সামিউল আজিজ)

Department Review : Architecture (স্থাপত্য)

প্রথমেই বলে নেই আর্কিটেকচার কিন্তু প্রকৌশল নয়। আবার আর্কিটেকচার কোন সাবজেক্ট ও নয়। তাহলে আর্কিটেকচার কী? এর উত্তর হয়ত ১০ বছর এই ক্ষেত্রে থেকেও বুঝা যাবে না। ছাত্র হিসাবে আর্কিটেকচার যতটা পড়া তার চেয়ে বড় হল লাইফ স্টাইল। সেটা কেমন? এটাও বলার নয় দেখে অণুকরণ করার নয় নিজে নিজে গড়ে নেবার ব্যাপার। সেটা কীভাবে কেন কোথায় এর উত্তর কেবল যিনি কাজটি করছেন তিনিই দিতে পারেন।
তাহলে আর্কিটেকচারে কী পড়ায়? বিল্ডিং ডিজাইন করা? নিশ্চয়ই। তবে সেটা সামান্য পার্ট মাত্র। আর্কিটেক্ট কী করে? বিল্ডিং ড্রইং করে। সেটা সবাই পারে না ঠিকই। কিন্তু সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বা নিয়ম জানা সাধারণ মানুষ ও পারে। তবে কেন এদের দরকার? আর শুধু কী এই ই করে? প্রশ্ন অনেক উত্তর সামান্য। এসবই নিজের এক্সপ্লোর করার ব্যাপার। এটুকু বলে দেয়া যায় একজন আর্কিটেকচার ছাত্রের জন্যে জীবন,প্রকৃতি আর মানুষ হল পড়ার বিষয়। এর সাথে সম্পর্কিত যা যা হতে পারে সবই এখানে পড়ানো হয়। ডিজাইন করা আর তাকে ডেভেলপ করা এটাই মূল কাজ। ডিজাইন যে কোন বিষয় এর হতে পারে।
চাকরী নিয়েও কিছু বলা যাবে না। এমনকী তুমি আর্কিটেক্ট হবে কী না তাও না। বেতন বা এরকম ব্যাপার নিয়ে কথা বলা বোকামি। তবে যারা ভাব যে “না খেয়ে মরতে হবে” তাদের দ্বিধাহীন কন্ঠ্যে শুধু বলতে পারি “না।”
এবার আশা যাক কী কী চাই।
অসীম ইচ্ছা, পরিশ্রমী মানসিকতা, Ambition, fitness আর নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা। এটা পর্যাপ্ত জ্ঞান সম্পন্ন যে কেউ স্বীকার করবে যে জগতে যত বিদ্যা আছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান হয় তার মাঝে আর্কিটেকচার শেষ করা সবচেয়ে কঠিন। আর কী যোগ্যতা লাগে? ভাল আকতে পারা? হলে ভাল। না হলে খারাপ তাও না। তবে অল্পতে তুষ্ট না হওয়া, মূলের বা সাধারণের বাইরে চিন্তা করা এবং কখনো হার না মানার মত মন দরকার। শিক্ষার প্রসেসটা খুব দ্রুত না। আবার অল্প সময়ে অমানুষিক পরিমান চাপ নিতেও হয়। সুতরাং যা সবচেয়ে আগে চাই তা হল “ আমি আর্কিটেকচারই পড়তে চাই” এই ইচ্ছা। আমি আবারো বলছি আর্কিটেকচার তোমাকে কোথায় নিয়ে যাবে আমি জানি না, কীভাবে যাবে তাও না। তবে যেতে হবে নিজেকে আর রাস্তাটা যথেষ্ট কঠিন।
ভাল কিছু কথা না বললে কেউ সেই ইচ্ছাটা পাবে না। আর্কিটেকচারের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব, চিন্তাধারা, জীবন যাপন থেকে জীবিকা সব এই বিষয়ের blessing বলা যায়। জিজ্ঞাসা করলেই জানবে এই ডিপারর্টমেন্ট যেখানেই আছে সত্যিকারের আনন্দ আর জীবন সেখানে খুজে পাওয়া যাবেই। জানা ও শেখার পরিধিতে যে কোন মানুষের সাথে পাল্লা দিতে পারে একজন আর্কিটেক্ট। ধরা যাক একটা স্কুল ডিজাইন করতে হবে। বাচ্চা থেকে টিন এজার দের মানসিকতা, শিক্ষকের শিক্ষাদানের উপায় থেকে শুরু করে দেশের ও বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে যেতে হয়। যেটা অনেক শিক্ষাবিদ ও করেন না অনেক সময়। এবং কাজটা সহজ নয়। ৫ বছর প্রায় ২০০ ক্রেডিট এর মাঝে ইতিহাস থেকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিকাল থেকে সিভিল সব যেমন আছে ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব সাবজেক্ট এর বৈচিত্র যে কাউকে মুগ্ধ করে দেবে। যেমন শুধু গান এর আসল স্বাদ বোঝার জন্যে ১.৫ ক্রেডিট এর কোর্স আছে এতে। এটা শুধুই সামান্য চিত্র দিচ্ছে কেবল। এমন অনেক মজায় অনেক ব্যাথায় ভরা এক জীবনের নাম আর্কিটেকচার।এখানে বন্ধু মানে পরিবার হয়ে ওঠে, জীবন মানে প্রজেক্ট হয়ে যায়,অস্বাভাবিক খুব স্বাভাবিক হয়ে যায় আর শেষে সৃষ্টির অর্থ খুজে বের করা মাঝে মাঝে যায়। এটাই মজা, এটাই উৎসাহ। আর্কিটেকচার শুধুই তাদের যারা এটা করতে চায়।
(সংগৃহীত)

PME নিয়ে রিভিউ

পেট্রোলিয়াম এবং মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টি বাংলাদেশে একেবারেই নতুন।তাই বেশিরভাগ মানুষের এই বিষয়ে খুব ভাল ধারণা না থাকাই স্বাভাবিক।আমাদের দেশে দুইটা আলাদা ইঞ্জিনিয়ারিংকে একত্রে করে পাঠদান করা হয়।
পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং-
পেট্রোলিয়াম প্রকৌশল হাইড্রোকার্বন(অশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস ) উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত কার্যক্রম সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং একটি ক্ষেত্র যা খনি আবিষ্কার,তৈল উত্পাদনের এবং গ্যাস শিল্পের মূল প্রজেক্টের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।
পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলীদের জিওফিজিক্স,পেট্রোলিয়াম জিওলজি,ওয়েল লগিং,ড্রিলিং,অর্থনীতি,তৈল ও গ্যাস খনি ব্যবস্থাপনা,ভূ-রাজনীতি,ইন্ডাস্ট্রি নির্মাণ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান থাকতে হয়।
বর্তমান সভ্যতার চালিকাশক্তি হল তৈল এবং গ্যাস।দেশে দেশে এতো দ্বন্দ্ব-যুদ্ধ-হানাহানি তার বেশিরভাগ এই ক্ষেত্রকে ঘিরেই।তাই চোখ-মুখ বন্ধ করেই বলা যায় পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলীদের চাহিদা এবং বেতন আকাশচুম্বী হবে।বাস্তবেও ঠিক তাই...সাথে যদি ৯টা-৫টা চাকরীর বাইরে গিয়ে ভূপৃষ্ঠের শত শত ফুট নিচে কাজ করার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত থাকেন তাহলে তো আর কথাই নাই!!!
মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং-
মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বা খনি প্রকৌশল প্রকৌশল পেশার একটি শাখা যা মূলত প্রকৃতি থেকে খনিজ পদার্থের উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পর্কিত তত্ত্ব, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং এর প্রয়োগ নিয়ে কাজ করে থাকে।
টেকসই আধুনিক সমাজের জন্য খনিজ পদার্থের উত্তোলন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ একটি অত্যন্ত আবশ্যিক বিষয়। খনিজ পদার্থের উত্তোলন প্রক্রিয়ার প্রকৃতিজনিত কারণেই খনি এলাকার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যাঘাত ঘটে থাকে। তাই খনি প্রকৌশলীদের শুধুমাত্র খনিজ পদার্থের উত্তোলন নয় বরং এর ফলে পরিবেশের ক্ষতি যেন যতটা সম্ভব কম হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়।
খনি প্রকৌশলীরা পৃথিবীর অন্যতম উচ্চ বেতনপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। প্রাক্কলন করা হয় যে এই পেশাটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে বিস্তৃতি লাভ করবে। সিনিয়র খনি প্রকৌশলীদের অবসরগ্রহণ, পৃথিবী জুড়ে খনিজ সম্পদের উত্তরোত্তর চাহিদা বৃদ্ধি এবং এই বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতাই এর মূল কারণ।
বাংলাদেশে অবস্থাঃ
বাংলাদেশের এই সাবজেক্টটি আগে না থাকায় কেমিক্যাল/মেকানিক্যাল/ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রকৌশলী দ্বারা এই দেশের বিভিন্ন খনিতে কাজ চালানো হয় এমনকি বাইরের দেশ হতে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীও আনা হয়।আশা করা হয় যে সমুদ্রের বিভিন্ন ব্লক থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ শুরু হলে সম্ভাবনার এক বিশাল দ্বার উন্মুক্ত হবে।
লিখেছেন-
Meshkatus Salehin,
পেট্রোলিয়াম ও খনি কৌশল বিভাগ,
শাবিপ্রবি,সিলেট।

সাবজেক্ট রিভিউঃ মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান (Soil Water & Environment Science)

ঢাবিতে মেধাক্রম একটু পেছনে এসেছে বলে অনেকেই হতাশ হয়ে গেছ জানি। তাই ঢাবির তথাকথিত (!) পেছনের দিকের অপার সম্ভাবনাময় ‘মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান’ নামক বিষয়ের সাথে কিছুটা পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।
ছোটবেলা রচনায় লিখেছ বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, নদীমাতৃক দেশ, সবুজে ঘেরা মায়াময় এক দেশ। যারা দেশে থাকতে চাও তাদের জন্য আমি মনে করি পড়ার জন্য এর চেয়ে ভাল সাবজেক্ট আর হতে পারে না। এদেশের সবচেয়ে সেরা উপাদান তিনটি নিয়ে পড়ালেখার সুযোগ কয়জন পায়?
Environment Science নিয়ে বলার কিছু অপেক্ষা রাখে না। আমি শুধু আজ Soil Science এর ক্যারিয়ার নিয়েই আলোচনা করব।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত গান রয়েছে,সকল দেশের চাইতে খাঁটি আমার দেশের মাটি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে এতদিনেও বাংলাদেশের মাত্র তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি নিয়ে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১২০), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়(৪৫) এবং চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
এটি মূলত রসায়ন এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান ভিত্তিক একটা বিষয়। এবার আসি এখানে কি পড়ানো হয়।
• Soil physics
• Soil chemistry
• Soil biochemistry
• Soil microbiology
• Soil fertility & plant nutrition
• Soil survey & Remote sensing
• Agronomy
• Soil pollution & waste management
• Soil-Water management
• Soils of BANGLADESH
তো বুঝতেই পারছো যারা মাইক্রোবায়োলজি বা বায়োকেমেস্ট্রি পড়তে চেয়েছিলে তারা এখানে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে পারবে। আর উপরের টপিক দেখে বুঝেই গেছ তোমার ক্যারিয়ার কি হতে পারে?
এখন আসি এই বিষয়ে ভাল করে কারা? যারা ম্যাপিং, বিজ্ঞানকে ভালবাসে, যারা বাইরে কাজ করতে ভালোবাসে। আর যারা নিচের টপিকগুলো অনুভব করতে পারে;
• রসায়ন-রাসায়নিক গননা, জারন-বিজারন,রাসায়নিক বন্ধন,তরল-তরল দ্রবন, d-ব্লক মৌল,অম্ল-ক্ষারক
• উদ্ভিদবিজ্ঞান- কোষস্থ জৈব রসায়ন,উদ্ভিদের জৈবনিক প্রক্রিয়া, ইকোলজি, বায়োটেকনোলজি
সর্বোপরি ভালো পর্যবেক্ষক হতে হবে।
এইবার আসি কাজের ক্ষেত্রে;
• Crop consultant
• Soil survey
• Soil managemet programs recommender
• Hydrologiic plant designer
• Soil productivity monitor
• Land management
• Forest production
• Erosion control
• Soil fertility
• Soil resource
• Soil microbiologist
• Soil biochemist
দেশে যেসব কাজের ক্ষেত্র রয়েছে সেগুলো হল;
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE)
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনসটিটিউট (BARI)
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউট (BJRI)
মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা ইনসটিটিউট (SRRI)
তুলা উন্নয়ন বোর্ড (CDP)
বাংলাদেশ কৃষি গবেশনা কাউন্সিল (BARC)
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপরেসন (BADC)
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনসটিটিউট (BRRI)
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা (BINA)
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন কর্পোরেশন (RDI)
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সিটিউট (BTRI)
গম গবেষণা কেন্দ্র
ডাল গবেষণা কেন্দ্র
আম গবেষণা কেন্দ্র
বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইন্সিটিউট
বেতন বলার অপেক্ষা রাখে না। আর বাইরের দেশের কথা বলতে গেলেতো সোনায় সোহাগা। উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। আমার কথার উপর ভরসা না করে নিজেও SOIL SCIENCE এর খোজ খবর নাও। আরো খোঁজ নেয়ার জন্য গুগল তো আছেই।
শুভ কামনা সবার জন্য।
লিখেছেন-
সজীব কুমার বর্মন, শিক্ষার্থী, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সাব্জেক্ট রিভিউ - নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (URP)

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছেই ইউ আর পি অচেনা একটি বিষয় এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই তথাকথিত পেছনের দিকের একটি বিষয়। কিন্তু আসলেই দেখা যাক বিষয়টিতে কি পড়ানো হয় বা এর ভবিষ্যত কি রকম।
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়টি মূলত পূরকৌশল, স্থাপত্য বিদ্যা এবং সামাজিক বিজ্ঞানের সংমিশ্রণ। কি, অদ্ভুত মনে হচ্ছে? আসলে আমাদের দেশে স্থপতিরা স্থাপনার নকশা করে, পুরকৌশলীরা সে স্থাপনা নির্মাণ করে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সে স্থাপনাগুলো কোন নগরের জন্য উল্লেখযোগ্য কোন ভুমিকা রাখছে কি না বা সে সকল স্থাপনাগুলোর আদৌ কোন দরকার আছে কিনা বা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি নগরের এবং নাগরিকদের কি কি দরকার সেটা দেখা হয় না। সেজন্যেই বাইরের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও পরিকল্পনা বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিকল্পনা বিষয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এখন দেখা যাক এ বিষয়ে কি কি নিয়ে পড়াশুনা করতে হয়। প্রথমত পুরকৌশল এর প্রাথমিক কিছু কোর্স করানো হয়। পাশাপাশি স্থাপত্যবিদ্যা নিয়েও বেশ ঘাটাঘাটি করতে হয়। এ বিভাগে পড়তে হলে আকাআকির হাতটা ভালো হলে সুবিধা হয়, নাহলেও তেমন একটা অসুবিধা হয় না। কারণ পরবর্তিতে কম্পিউটার সফটওয়ার নিয়ে প্রচুর কাজ করতে হয়, যেমন- গ্রাফিক্সের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সফটওয়্যার, জি আই এস, ত্রিমাত্রিক কাজ ইত্যাদি করতে হয়। এছাড়াও প্ল্যানিং শিক্ষার নিজস্ব কিছু কোর্স রয়েছে যার মাধ্যমে শেখা যায় কিভাবে সামগ্রিকভাবে বড় পরিসরে নগর, নাগরিক এবং দেশের জন্য পরিকল্পনা করা যায়।
এ বিষয়ের সবচেয়ে ডায়নামিক দিকটি হল চাইলে কেউ কারিগরি দিকেও কাজ করতে পারে অর্থাৎ প্রকৌশলীদের সাথে বা সামাজিক ক্ষেত্রেও উন্নয়নের কাজ করতে পারবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নঃ চাকরির বাজারে এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েটদের মূল্য কতটুকু? পরিকল্পনা বিষয়ে এ দেশে গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে এ বিষয় সম্পর্কে অনেকেই অবগত না। তাহলে বলে রাখি যে বর্ত্মানে দেশে পরিকল্পনাবিদদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এর চাহিদা ১৬% বৃদ্ধি পাবে। চাকরির ক্ষেত্র হলঃ এনজিও, বিভিন্ন কন্সট্রাকশন ফার্ম, বিভিন্ন কন্সাল্টেন্সী ফার্ম ইত্যাদি। সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি মহানগরের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, প্রত্যেকটি পৌরসভা এবং পরিকল্পনা কমিশনে নগর পরিকল্পনাবিদের আসনে আসীন হতে পারবে।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা রয়েছে। কেউ চাইলেই পুরকৌশলের এবং স্থাপত্য বিদ্যার বিভিন্ন শাখায় উচ্চ শিক্ষা নিতে পারবে। এ বিষয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি করার ক্ষেত্রে ফান্ডিংও বেশ ভালো পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে দক্ষ পরিকল্পনাবিদের চাহিদা প্রচুর।
শেষ কথাঃ কেউ যদি দূর্ভাগ্যক্রমে (!!!) এ বিষয়ে ভর্তি হতে হয় তাহলে মন খারাপ কর না। তোমার ভবিষ্যত আসলেই ভালো হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয় কখনো থেমে থাকতে হবে না। যারা যারা কারিগরি এবং ক্রিয়েটিভ শিক্ষার অদ্ভুত এক মেলবন্ধনে নিজেকে বাধতে চাও তাদেরকে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে স্বাগতম।
লিখেছেন-
গুঞ্জন বড়ুয়া, শিক্ষার্থী,
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, কুয়েট

Subject Review : Aeronautical Engineering


এক সময় আকাশে ওড়ার বিষয়টি মানুষের কাছে শুধু স্বপ্ন ছিল। মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণ হয় ১৯০৩ সালে। সেই ইতিহাস সবারই জানা। সেই অর্থে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর বয়স ১০০ বছর। বয়স যতই হোক, এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় বিষয়ের মধ্যে একটি। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ মূলত বিমানের গঠন, উৎপাদন এবং পরিচালনার বিষয়গুলো পড়ানো হয়। যাত্রীবাহী বিমান থেকে শুরু করে মহাকাশের নভোযানগুলোর তৈরি কৌশল সবই এই বিভাগের অন্তর্গত। আর তথ্য ও প্রযুক্তির এই যুগে এটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আশা করি সবাই বুঝবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এই subject টি এখনও সদ্য জন্মপ্রাপ্ত শিশুর মতো। অনেকেই হয়ত এই বিষয়টির নাম এখনও শোনেই নি । বাংলাদেশে সর্বপ্রথম MIST, ২০০৯ সাল থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং চালু করে। চালু করার প্রধান কারণটি ছিল বাংলাদেশের Aviation সেক্টরে যে অনগ্রসরতা, তা কাটিয়ে ওঠা।
তোমরা একটা কথা শুনলে অবাক হবে যে , বোয়িং বাংলাদেশের ডিসি-১০ বিমান ওদের জাদুঘরে রাখবার জন্য চেয়েছে,কারণ এই ডিসি-১০ বিমান বিশ্বজুড়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর দ্বারা তোমরা সহজেই বাংলাদেশের Aviation সেক্টরের অবস্থা উপলব্ধি করতে পারবে। তাই দেশের Aviation সেক্টরকে যারা সমৃদ্ধ করতে চায়, আকাশকে যারা সঙ্গী হিসেবে পেতে চায় তারা এই বিভাগে most welcome !
Subject টি মূলত ২ ভাগে বিভক্ত। একটি Aerospace অপরটি Avionics । এই দুটি discipline নিয়ে সংক্ষেপে নিচে বর্ণনা করা হল:
Aerospace: Aerospace Engineering এ বিমানের মেকানিক্যাল অংশ নিয়ে পড়ানো হয়। এই বিভাগের আলোচ্য বিষয়গুলো হল:
1. Aerospace Propulsion
2. Applied & High Speed Aerodynamics
3. Aerospace Vehicle Design
4. Rotorcraft Performance
5. Weapons Engineering
6. Aircraft Structural Design
7. Aircraft Loading & Structural Analysis
8. Space Engineering etc.
Avionics: Avionics এ বিমানের ইলেক্ট্রিক্যাল অংশ পড়ানো হয়। এই বিভাগের আলোচ্য বিষয়গুলো হল:
1. Avionics Engineering
2. Radar Engineering
3. Satellite Communication
4. Optoelectronics
5. Optical Fiber Communication
6. Microwave engineering
7. Aero-measurement & Instrumentation
8. Guidance, Navigation & Control etc
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে তুমি মেক্যানিকাল, ইলেক্ট্রিক্যাল সহ প্রায় সব ইঞ্জিনিয়ারিং এরই স্বাদ পাবে, কারন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং “প্রায় সবকিছু” নিয়েই আলোচনা করে।
বিশ্বের প্রায় ৬২টি দেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়। এ দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল China, USA, UK, Russia, Italy, Germany, Canada
এশীয় দেশগুলোর মধ্যে China ও India তে সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়। এছাড়াও Japan, Indoneshia, Korea, Malaysia প্রভৃতি দেশ সমূহে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যপকভাবে জনপ্রিয়।
বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর চাহিদা খুবই বেশি। বাংলাদেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের স্বল্পতার কারণেই airlines কোম্পানিগুলো বর্তমানে দেশের বাইরের ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। তাই এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা airlines কোম্পানিগুলোতে চাকরি নিতে পারবে। এছাড়াও দেশের বাইরের airlines কোম্পানিগুলোতেও চাকরি করতে পারবে। আর একটি কথা অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা হচ্ছে বিশ্বের “Most Highly Paid” ইঞ্জিনিয়ার । একটি উদাহরণ দিলে পরিস্কার ভাবে বুঝতে পারবে, NASA তে ১জন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক বেতন ৯৭,৪১১ US Dollar এবং বোয়িং এ বার্ষিক বেতন ৭০,০২৩ US Dollar, যা বাংলাদেশী টাকায় কত তা তোমারা হিসেব করে বের করো । আর, দেশীয় এয়ারলাইন্স গুলোতে বেতন অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার তুলনায় মোটামোটি বেশ ভালো অঙ্কেরই বলা চলে।
একটা প্রশ্ন সবার মনে আসতেই পারে যে,বাংলাদেশে যেহেতু অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নেই, তাহলে এই বিষয়টি পড়াচ্ছে কারা? এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলব - MIST তে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির Faculty member হচ্ছে ‘Bangladesh Air Force` এর ইঞ্জিনিয়াররা এবং এই বিভাগকে আরও সমৃদ্ধ করতে Indian Air Force এর ২ জন ইনস্ট্রাক্টর এখানে কর্মরত আছেন।
তাই আকাশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইলে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারো ।
Now Choice Is Yours !
লিখেছেন
Refayate Manju Maruf
AE, MIST - 2011

সাবজেক্ট রিভিউ - MME

মেটারিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলায় বস্তু ও ধাতবকৌশল। বেশিরভাগ মানুষের কাছে বেশ অপরিচিত এবং বিদখুটে নাম। তবে সিভিল বা মেকানিকালের মত এটিও অনেক পুরাতন ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যা।মানুষ যখন থেকে তামা আবিষ্কার করে তখন থেকেই মূল যাত্রা শুরু। এর ইতিহাস নিয়ে কিছুই বলব না, যারা আগ্রহী তারা উইকিপিডিয়া থেকে পড়ে নিতে পার। সরাসরি চলে যাচ্ছি এখানে কি পড়ানো হয়, এখানে পড়ে কি কি করতে পার আর এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায়।
কি পড়ানো হয়ঃ
আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে সব কিছু কোন না কোন উপাদান দিয়ে তৈরি। আর এই ‘উপাদান’ নিয়েই এম এম ই। নামে ধাতবকৌশল দেখে ভাবার দরকার নেই শুধু ধাতু এবং সংকর ধাতু নিয়ে এম এম ই। বরং আমাদের বাড়ির চামচ থেকে যুদ্ধের ময়দানের ট্যাঙ্ক, পানির নিচের সাবমেরিন থেকে মহাকাশযান- সব কিছুর সাথেই এমএমই এর সম্পর্ক। সকল বস্তুকে ৫টি প্রধান ভাগ(মেটাল, সিরামিক, সেমিকন্ডাক্টার, পলিমার, কম্পোজিট) করে কাজ করে এমএমই।
মেটালঃকিভাবে খনি থেকে আকরিক আহরণ করা হয়, কিভাবে তা থেকে ধাতু নিষ্কাশন করা হয়, সংকর ধাতু কিভাবে তৈরি করলে তা মানুষের বেশি কাজে আসবে কিন্তু খরচ হবে কম, কিভাবে রিসাইকেল করে কোন ধাতব বস্তুকে কাজে লাগানো যায়, জাহাজ, প্লেন, মহাকাশযান, গাড়ির বডি,ইঞ্জিনের উপাদান কি হবে যেন তা সহজে নস্ট না হয়, পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এরকম হাজারো ব্যাপার।
সিরামিকঃ বাসার নিত্য প্রয়োজনীয় থালা-বাসন,মেঝের টাইলস ছাড়াও সিরামিকের বিশাল একটা ক্ষেত্র আছে। উচ্চতাপমাত্রায় কাজ করার যন্ত্র, অপটিক্যাল ফাইবার, ইনসুলেটর, সিমেন্ট, কৃত্তিম অঙ্গ তৈরি এরকম অনেক জায়গায় সিরামিক লাগে।
সেমিকন্ডাক্টারঃইলেক্ট্রিক চিপ এখন সব যায়গায়। আর এমএমই এর কাজের একটা বড় ক্ষেত্র এখানে।কিভাবে কোন ইলেক্ট্রনিক ম্যাটেরিয়াল কাজ করবে, কত ভোল্টেজ, তাপমাত্রা পর্যন্ত সহ্য করতে পারবে এসবই নির্ভর করে উপাদানের উপর। আর উপাদান মানেই এমএমই।কিভাবে ইলেক্ট্রনিক স্ট্র্যাকচার চেঞ্জ হয়, ব্যান্ড থিওরি, কোয়ান্টাম স্ট্র্যাকচার যেমন quantum well , quantum dot এসব নিয়েও কাজ হয় এমএমইতে
পলিমারঃপলিমার কি তা আলাদা করে বলার দরকার পড়বে না। পলিমারের প্রচুর জিনিস আমরা ব্যবহার করি। এসবের প্রস্তুতি,গুনগত মান রক্ষা সবই এম এমইর আওতায় পড়ে।
কম্পোজিটঃউপরের ৪ প্রকার ম্যাটেরিয়ালের সমন্বয়ে যেসব বস্তু বানানো হয় তারাই এর অন্তর্ভুক্ত। শুধু ধাতু বা সিরামিকের তৈরি কোন কিছুর মান উন্নয়নে অন্য কিছু যোগ করে তৈরি হয় কম্পোজিট। খেলার র্যারকেট, আধুনিক উচ্চ গতির প্লেনের বডি, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট বা গ্লাসসহ আরো অনেক কিছুই কম্পোজিট ম্যাটেরিয়ালসের আওতায় পড়ে।
এসবই পড়ার মূল বিষয়। আগামি ৪ বছর এসবেরই বিভিন্ন ধর্ম, কিভাবে কাজ করে, কিভাবে ডিজাইন করে এসব নিয়ে পড়তে হবে। চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে সিলেবাস দেখে নিতে পার।
কাজের ক্ষেত্রঃ
কি কি পড়া হয় থেকেই বুঝে যাওয়ার কথা কাজের ক্ষেত্র। তবু বলছিঃ
১. যদি কারো গবেষণার ইচ্ছা থাকে তবে নিয়ে নিতে পার চিন্তা ছাড়াই। বাংলাদেশে খুব বেশি গবেষণার সুযোগ না থাকলেও বিশ্বে যত গবেষণা হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি শাখা ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স। তাই ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে বিদেশে চলে যেতে পার আর নিজের মত নতুন একটি ম্যাটেরিয়াল আবিষ্কার করে পৃথিবীকে চমকে দিতে পার।
২. যাদের বিদেশে যাবার ইচ্ছা নেই বা ৯-৫টা অফিস করার ইচ্ছা তারাও হতাশ হবে না। দেশে মূলত স্টিল ফ্যাক্টরিতে সুযোগ আছে। সেই সাথে সিরামিক, গ্লাস ইন্ডাস্ট্রি, গ্যাস ফিল্ড ছাড়াও প্রায় সকল প্রকার ইন্ডাস্ট্রিতে এখন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৩.এমএমই এর কাজের ক্ষেত্র আরো বড়। ন্যানোটেক,বায়ো মেডিকেল, ইলেকট্রিক্স এরকম বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল, ইচ্ছা ছিল ইইই পড়ে ওসব করবে কিন্তু ইইই পাচ্ছো না, তাদের বলছি তোমাদের আশা এখনো আছে কারণ এমএমই থেকেই এসব এসেছে। তাই ভবিষ্যতে এসবের পড়ার ভালো সুযোগ এখনো তোমার আছে।আমাদের বড় ভাইয়াদের অনেকেই এখন Intel,IBM এর মত প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
৪.ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগের গবেষণায় এমএমই এখন অনেক ভুমিকা রাখছে। হাড়,দাঁত প্রতিস্থাপন, কৃত্তিম পা, হাত সবই ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্টিস্টরা করছে। কারণ মানুষের দেহে এসব প্রতিস্থাপন করতে হলে এমন উপাদান হতে হবে যা শরীরের কোন ক্ষতি করবে না। আর উপাদান মানেই তো এমএমই।হয়তো তোমাদের মধ্যেই কেউ কম খরচে কৃত্তিম কিডনি বা সেরকম কিছু বানাবে, ক্যান্সারকে নির্মূল করবে- বাঁচাবে হাজার হাজার প্রান।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎঃ
আগেই বলেছি বাংলাদেশে খুব বেশি পরিচিত না। এর একটা বড় কারন পাশ করে বেশিরভাগ ছাত্র স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে যায় অথবা চাকরিতে ঢুকে যায়। আর তাই তাদের সহজে দেখা যায় না। কয়েক বছরে এমএমই এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। আগে হয়ত মেটালার্জির কাজ যা মেকানিকাল বা ইলেক্টিকাল ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে করানো হত কিন্তু এখন পন্যের চাহিদা বাড়ায় মান নিশ্চিত করতে এমএমই এর ইঞ্জিনিয়ারদেরই লাগছে। ফলে গত কয়েক বছরে এমএমই এর চাহিদা অনেক বেড়েছে এবং তা বাড়বেই। যেহেতু দেশে একমাত্র বুয়েট ছাড়া আর কোথাও নেই তাই অন্যদের মত চাকরি নিয়ে প্রতিযোগিতাও কম। আর বহির্বিশ্বে এর চাহিদা অনেক আগে থেকেই বেশি।অন্য বিষয়ে পড়ে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স বা মেটালার্জিত উপর এম এস বা পি এচ ডি করে অনেকে। ২০১১ সালে কেমিস্ট্রিতে নোবেল পাওয়া Daniel Shechtman ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সের উপর কাজ করেই নোবেল পেয়েছেন। শুধু তাই না, নোবেলের পর পদার্থের ২য় সেরা উলফ প্রাইজ ও তিনি পেয়েছেন একই কাজের জন্য।
নাসা, সার্নের মত বড় বড় জায়গায় ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্টিস্ট লাগে। তার মানে বুঝতেই পারছ এর ভবিষ্যৎ। মানুষের চাহিদা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে, সেই সাথে দামও।ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্টিস্টদের নতুন কিছু করতে হবে যেন চাহিদা মেটানো সহজ হয় সাথে দামও না বাড়ে। মানুষের সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষের জীবনকে সুন্দর করে তোলার জন্য দিনে দিনে এর চাহিদা ।চাহিদা বাড়ছে এর প্রমান গত বছর এমএমই এর সিট বাড়ানো হয়েছে। আর যদি এমএমইতে আসো তখন আরো দেখবে ‘স্মার্ট ম্যাটেরিয়াল’ অথবা Shape Memory Alloy এর মত মজার ম্যাটেরিয়ালস।একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার গাড়ি,জাহাজ,প্লেন বানাবে,ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার চিপ বানাবে কিন্তু সবাইকেই কোন না কোন উপাদান দিয়েই বানাতে হবে। আর তখন দরকার পড়বে তোমার। গাছের শিকড়কে কেউ দেখতে পায় না কিন্তু গাছের খাবার যোগানের মূল কাজটা করে গাছের জীবন বাঁচিয়ে রাখে কিন্তু শিকড়ই করে।
আর একটা কথা এমএমই শুধু একটা ডিপার্টমেন্ট না, আমরা গোটা বাংলাদেশে ছাত্র হিসেবে মাত্র ২৫০ জনের মত। আর তাই আমরা একটা পরিবারের মত। এমএমই পরিবারের বাকি সবাই এই পরিবারের নতুনদের সাদরে বরণ করে নিতে অপেক্ষায় আছে।
লিখেছেন
Md Musavvir Mahmud
MME, BUET - 2011

Subject Review: Chemical Engineering


বিজ্ঞানের আধুনিকতম বিষয়গুলোর মধ্যে একটি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এই ক্ষেত্রটি প্রতি মুহূর্তেই আরও বিকশিত হচ্ছে আর যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন গবেষণা আর কাজের ক্ষেত্র। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ মূলত কি? অনেকের ই একটি ভ্রান্ত ধারনা আছে যে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আর কেমিস্ট্রি মোটামুটি একই ক্যাটাগরির। একজন কেমিস্ট এর মূল কাজ হল ল্যাবে। অন্যদিকে আমাদের কাজ হল প্রধানত ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে। একজন রসায়নবিদ যেই প্রক্রিয়া ল্যাবের বিকারে ঘটান একজন ইঞ্জিনিয়ার সেই কাজকেই শিল্পক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে কেমিক্যাল প্ল্যান্টে প্রয়োগ করেন। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত Physics, Chemistry, Life Science (biology,microbiology,biochemistry) এর সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং এর সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক উপায়ে কাঁচামাল থেকে ব্যাবহারযোগ্য সামগ্রী তৈরির প্রক্রিয়া। অনেকের ধারণা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়িয়ারদের কাজ ল্যাবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন কেমিস্ট এর মধ্যে পার্থক্য টা এখানেই। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ মূলত ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে। প্রধান কাজগুলো হল-
Design, manufacture and operating plants
Development of new or adopted products
আধুনিক বিজ্ঞানের একটা বিশাল সেক্টর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। পড়াশোনার সুযোগ যেমন বিশাল তেমন রয়েছে গবেষণার ও অনেক সুযোগ। এখানে পাবে Heat Transfer, Mass Transfer এর মত ইন্টারেস্টিং বিষয় সম্পর্কে জানার সুযোগ তেমনি পাবে সুবর্ণ এক ভবিষ্যতের হাতছানি। আর যদি ভাল না লাগে তবে দেখে নাও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রগুলো। ইচ্ছে থাকলে তুমিও হয়ে যেতে পারো একজন Nuclear Engineer তৈরি করতে পারো পারমানবিক বোমা (:P) অথবা হতে পারো biomedical Engineer. গবেষণা করতে পারো জটিল জিনগত রোগ বা এইডস/ক্যান্সার/ডায়াবেটিস নিয়ে। আবার চাইলে চলে যেতে পারো pharmaceuticals এ বা টেক্সটাইল সেক্টরেও। এসবের সূচনা হবে কেমিক্যাল এর হাত ধরেই। তবে দেখে নাও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিস্তৃত ক্ষেত্র
Biochemical Engineering
Biomedical Engineering
Chemical Reactor Engineering
Computational Fluid Dynamics
Corrosion Engineering
Electrochemistry
Environmental Engineering
Food and Nutition Science
Metallurgy
Mineral Processing
Nanotechnology
Neuclear Reprocessing
Oil exploration
Oil Refinery
Pharmaceuticals
Plastics, polymers
Process contol, design, development
Paper Technology
Textile Engineering
Water Technology
এতগুলো বিষয়ে গবেষণার সুযোগ অন্য কোন বিষয়ে পাবে না। আর চাকরি? যতদিন পৃথিবীতে শিল্প কারখানা থাকবে ততদিন তোমার চাহিদা থাকবেই। বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে দিনদিন যতই অগ্রসর হবে এর কাজের ক্ষেত্র ততই বিস্তৃত হবে। আর দেশের বাইরেও রয়েছে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা। AlChE এক জরিপ অনুযায়ী ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর গ্রাজুয়েট এর বার্ষিক বেতন $110000. পাশাপাশি দেশেও রয়েছে বিস্তৃত ক্ষেত্র। অনেক জায়গায় ই শোনা যায় দেশে নাকি চাকরি নাই। তাহলে দেখে নাও তোমার ভবিষ্যতের চাকরির সুযোগগুলো-
সার কারখানা
পেপার মিল
সুগার মিল
গ্লাস ও সিরামিক শিল্প
পেইন্টস কারখানা
ঔষধ শিল্প
ফুড এন্ড বেভারেজ কোম্পানি
টেক্সটাইল কোম্পানি
কসমেটিকস কোম্পানি
পেট্রোলিয়াম
পারমাণবিক প্ল্যান্ট
সিমেন্ট কারখানা
তেল উত্তোলন ও পরিশোধন
ট্যানারি শিল্প
বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ
আর দেশে এই বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ খুব অল্প কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যে কারণে প্রতি বছর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর গ্র্যাজুয়েট সংখ্যা খুব বেশী থাকে না। এটা দেশের চাকরির বাজারে তোমার জন্য প্লাস পয়েন্ট হিসেবে গন্য হতে পারে।
মূলত সকল ধরণের শিল্প প্রতিষ্ঠানেই আমাদের চাহিদা। খাবার চিপস থেকে শুরু করে কম্পিউটারের মাইক্রোচিপ তৈরি হবে তোমার হাত দিয়েই। বড় বড় মিলস চলবে তোমার হাতে। তোমার হাতেই নিয়ন্ত্রিত হবে, তোমার উদ্ভাবিত পথেই উৎপাদনে যাবে কোটি কোটি টাকায় গড়া একটি প্রতিষ্ঠান। এত বড় চ্যালেঞ্জ নিতে তুমি তৈরি তো?
লিখেছেন
Alauddin Al Azad
কেমিকৌশল, বুয়েট - ২০১১

Subject Review – Civil Engineering

পুরকৌশল- প্রকৌশলবিদ্যার অন্যতম শাখা। সঙ্গত কারনেই সারা পৃথিবীর প্রকৌশল বিদ্যায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় থাকে এই শাখাটি। স্বপ্ন যাদের দেশ গড়ার তাদের জন্যই পুরকৌশল।
চাহিদারকথা বলতে গেলে বলতে হয় কিছু কিছু বিষয়ের চাহিদা সেই প্রাচীন কালেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। পুরকৌশল তেমনি একটি বিষয়। অনেকের ধারনা এই বিষয় পড়লে ঘুষ খেতে হয় কিংবা এই প্রকৌশলীদের বেতন নাই। কিন্তু ভাল মন্দ সম্পূর্ণ নিজের কাছে। কেউ যদি দুর্নীতি করতে চায়, যে কোন জায়গা থেকেই তা করতে পারে। ভাল থাকতে চাইলে যে কোন জায়গাতেই ভাল থাকা সম্ভব। আর বেতনের কথা বলা যায় skill থাকলে এই বিষয়ে যত উপরে যাওয়া যায়, অন্য কোন বিষয়ে তা সম্ভব না, তা দেশেই হক আর বিদেশেই হোক।
আমেরিকার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর পর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দের গড় বেতন সবচেয়ে বেশি। তবে তার মানে এই নয় যে সবাই
high salary র job পাবে, এজন্য তোমাকে সেই পর্যায়ের skill develop করতে হবে। এটা শুধু পুরকৌশল নয়, সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
কি কি পড়ানো হয়
পুরকৌশল একটা ব্যাপক বিষয়। তবে interest আর পরিশ্রম থাকলে সহজেই ভাল করা সম্ভব। এইখানে প্রধানত যেই বিষয় টা পড়ানো হয় তা হল mechanics, এছাড়া ড্রয়িং, designing এর উপর ও ভাল দখল থাকা চাই। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান শাখা চারটি
I. Structural Engineering
II. Transportation Engineering
III. Geotechnical Engineering
IV. Environmental Engineering
এছাড়া Water Resource কেও পুরকৌশলের একটা শাখা বলা যায় বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট প্রকৌশল ভার্সিটি তে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ আছে।
কাজের ক্ষেত্র
I. সড়ক ও জনপদ
II. গণপূর্ত বিভাগ
III. Real estate company
IV. নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
V. পরিবেশ নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন multinational company
VI. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও বিভিন্ন multinational NGO
পরিশেষে বলা যায়, যাদের পুরকৌশলে আগ্রহ আছে তারা নির্দ্বিধায় এ পেশায় আসতে পার। ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হবে না ইনশাল্লাহ।
সবার জন্য শুভ কামনা।
লিখেছেন
হোসাইন শোভন ,
পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট

Subject Review – Mechanical Engineering

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশল পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ও বিস্তৃত ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্র। অনেকে মজা করে একে “যন্ত্রনা”কৌশলও বলে থাকে tongue emoticon এটার পক্ষে যুক্তি হলো “ভালো জিনিস অর্জন সহজসাধ্য নয়”
মেকানিক্যাল নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত রিউমার গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মেকানিক্যাল কঠিন + দেশে মেকানিক্যালের চাকরী নাই।
কোন ইঞ্জিনিয়ারিং ই সোজা না। শুধু শুধু মেকানিক্যাল কে দোষ দিয়ে লাভ আছে? তবে এটা ঠিক মেকানিক্যালে অনেক বেশি টপিক পড়তে হয়, অন্যদের তুলনায় একটু বেশি চিন্তা ভাবনা মাথার ভেতর রাখতে হয়। ১২ বছর পড়াশোনা করার পর যারা এই পর্যন্ত আসছ, তাদের জন্য এইটুকু করা কঠিন কিছু না।
চাকরির ব্যাপারে যেটা বলবো, সেটা হলো, শোনা কথায় কান না দিয়ে জব প্রোভাইডারদের সাইট গুলোতে একটু ঘুরে আসো। অধিকাংশ চাকরিতে তে লেখা BSc in ME/EEE বা BSc in ME/IPE মানে, মেকানিক্যাল পড়লে তুমি অনেক EEE + IPE রিলেটেড জব এও এপ্ল্যাই করতে পারবা। এইটা একটা advantage। দেশে মেকানিক্যালের চাকরি নাই, কথা টা ১০০% ভুল। আর, বিদেশে তো সোনায় সোহাগা।
“২০০৯ সালের হিসাব মতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লক্ষ প্রকৌশলী কর্মরত আছেন। তারমধ্যে প্রায় ২৩৯০০০ (১৫%) যন্ত্র প্রকৌশলী যা পুরকৌশলীদের(২৭৮০০০) পর দ্বিতীয় সর্ব বৃহৎ বিভাগ। ২০০৯ সালের পরিসংখ্যান মতে প্রতি দশকে ৬% হারে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান বাড়ছে, যাতে প্রত্যেক স্নাতক ডিগ্রীধারী প্রকৌশলীদের প্রাথমিক বেতন হল প্রতি বছরে ৫৮,৮০০ মার্কিন ডলার । যন্ত্রপ্রকৌশলীদের গড় বেতন প্রতি বছরে ৭৪,০০০ মার্কিন ডলার, যা সর্বোচ্চ প্রতি বছরে ৮৬,০০০ মার্কিন ডলার এবং সর্বনিম্ম ৬৩,০০০ মার্কিন ডলার”
(ওপরের এই প্যারাটুকুর দায়দায়িত্ব উইকিপিডিয়ার - http://bn.wikipedia.org/wiki/যন্ত্র_প্রকৌশল)
তবে, শর্ত প্রযোজ্য। তোমাকে এগুলার যোগ্য হতে হবে। পাশ করলেই আমাকে আমেরিকা তোমাকে ডেকে নিয়ে চাকরি দিবে – এইটা কিন্তু বলা হয় নাই। এখন আসি মেকানিক্যালে মূলত কি কি পড়ানো হয় + তুমি কোন কোন সেক্টরে চাকরি করে “চাকরি নাই” কথা টা ভুল প্রমানিত করতে পারো
Applied Mechanics
Fluid Engineering
Heat Transfer
Tribology
Aerospace & Automobile
Energy Conversion
Fuels & Combustion Technologies
Nuclear Engineering
Power Engineering
Advanced Energy Systems
Solar Engineering
Petroleum
Ocean, Offshore & Arctic Engineering
Environment & Transportation
Noise Control & Acoustics
Rail Transportation
Solid Waste Processing
Engineering & Technology Management
Manufacturing Engineering
Pressure Vessels & Piping
Systems & Design
Fluid Power Systems & Technology
Electrical & Electronic Packaging
Robotics
আরো অ-নে-ক কিছু। এতকিছু পড়ে + এত চাকরির সুযোগ থাকার পরেও যারা বলে চাকরি নাই, তাদের জন্য সমবেদনা। পৃথিবীর প্রথম পেসমেকার যখন বানানো হয়, তখন সেই টীমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারও ছিলো পেসমেকারের ম্যাটারিয়াল প্রপার্টি, পালস, ইফোর্ট – এগুলা এ্যানালাইসিস করার জন্য। তাইলে বোঝো ঠেল্যা tongue emoticon তবে এইগুলো তো আর একদিনে পড়বা না। ৪ বছর ধরে পড়বা। আর, অনেক টপিক পড়ানো হয় দেখে উচ্চ শিক্ষার সুযোগও মেকানিক্যালে বেশি।
যদি তুমি ফিজিক্স ভালোবাসো, যদি প্র্যাক্টিকাল ওয়ার্কে তোমার বেশি মজার লাগে, যদি মেকানিক্যাল রিলেটেড কোন সেক্টরে তোমার একটু হলেও ইন্টারেস্ট থাকে, তাহলে তোমার জন্য আমার পরামর্শ – মেকানিক্যাল পড়। তবে, মেকানিক্যালে নিজেকে মানিয়ে নেয়া অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর। যদি মন থেকে ইচ্ছা না করে, তাহলে মেকানিক্যালে এসো না, নিজেও বিপদে পড়বা, অন্যদেরও বিপদে ফেলবা। প্যাশন সব ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে, স্পেশালি মেকানিক্যালের জন্য অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর।
আরেকটা কথা বলি। দেশে কিন্তু গণহারে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয় না, পড়াও যায় না। বুয়েট (১৮০), কুয়েট(১২০), রুয়েট(১২০), চুয়েট(১৩০), IUT (মেকানিক্যাল + কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, MCE নামে পরিচিত) (৪৫), AUST (৫০), MIST, IUBAT
এটাও কিন্তু একটা সুবিধা। তো? অপেক্ষা কেন? যন্ত্রকৌশলের মন্ত্রমুগ্ধ দুনিয়াকে বেছে নাও তোমার জীবন ও জীবিকার সঙ্গী হিসাবে।
শুভকামনায়
Ratul Anick Paul
ME, KUET – 2011 Batch

“Subject Review : CSE”

সিএসই পড়তে গেলে যেই জিনিসটা খুবই দরকারী সেটা হলো ক্রিয়েটিভিটি, প্যাশন, লিডারশীপ কোয়ালিটি এবং অফকোর্স মাথায় রাখতে হবে সবসময় সিএসই অন্য যে কোন সাবজেক্টের চাইতে আলাদা।
সিএসইতে তোমার রেজাল্ট যদি ২ পয়েন্ট সামথিং থাকে (আউট অফ ৪), একগাদা ড্রপ কোর্স থাকে, হাতে সার্টিফিকেটও না থাকে তবুও তুমি ইন্ডাস্ট্রী কাপিয়ে দিতে পারবে যদি তোমার ক্রিয়েটিভিটি, প্যাশন, লিডারশীপ থাকে। কারণ এই তিনটা জিনিসের কম্বিনেশনে তুমি একটা জিনিসে বস হয়ে যেতে পারবে যেটাকে বলা হয় প্রোগ্রামীং। এখন একটু ভেঙে বলি এ তিনটা জিনিস কেন দরকার।
ক্রিয়েটিভিটি : তোমার কি রাতের বেলায় আইডিয়ার ঠেলায় ঘুম আসেনা? তাহলে তুমি সফটওয়ার ডেভলপমেন্টে ভাল করবে। কারণ ইন্ডাস্ট্রী ক্রিয়েটিভিটি চায়। দিন যাচ্ছে আর মানুষের কাছে চাহিদা বাড়ছে নতুন নতুন টেকনোলজির। সুতরাং নতুন কিছু বানানোর মত ক্ষমতা তোমার থাকতে হবে। তোমার মাথায় সবসময় নতুন কিছু ঘুরপাক খেতে হবে। নাহলে একাডেমিক প্রজেক্ট করার সময় তোমাকে দিশেহারা হয়ে ঘুরতে হবে। ফাইনাল ইয়ারে থিসিসের টপিক খুজে পাবেনা যেটা খুবই দু:খজনক ব্যাপার ৩ বছর পড়াশোনা করার পর।
প্যাশন : নতুন কিছু বানানোর ক্ষমতা থাকলেই হবেনা সেই সাথে ইচ্ছাটাও থাকতে হবে। ক্রিয়েটিভ লোকজন সবচাইতে বেশী হতাশায় ভোগে। সেই হতাশা তোমাকে কাটিয়ে উঠতে হবে। সব বাধা ভেঙে দিয়ে কিছু করতে হলে প্যাশন থাকা জরুরী এবং সেই প্যাশনটা অবশ্যই সিএসইর জন্যই হতে হবে। সিএসইতে পড়ে পলিটিক্স নিয়ে প্যাশন থাকলে সিএসইর কোন আউটকাম আসবেনা এটা কনফার্ম।
লিডারশীপ : A Leader is a by born Problem Solver. সিএসই পড়ার মানেই হলো নতুন নতুন প্রবলেম ম্যাথমেটিকসের লজিক এপ্লাই করে, ফিজিক্সের রুল দিয়ে সলভ করা। যে রিয়েল লাইফে ভাল প্রবলেম সলভার সে খুব ভালভাবে জানে একটা প্রবলেম কিভাবে সলভ করতে হয়। তাছাড়া একটা যে কোন লেন্থি কাজ আজকে কিভাবে শুরু করলে ১০ দিন পরে এটার ফল কি হবে এটা লিডার ছাড়া কেউ বলতে পারবেনা। লিডারশীপ যার মধ্যে থাকে তার মধ্যে ক্রিয়েটিভিটিও অটোমেটিক চলে আসে।
তবে সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে তোমাকে ভালবাসতে হবে সাবজেক্টটাকে। স্বপ্ন দেখতে হবে এবং স্বপ্ন সত্যি করার জন্য এনাফ গাটস থাকতে হবে। সাবজেক্টটার প্রতি ভালবাসা না থাকলে ভাল করা সম্ভব না।
একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই একজন বড়ভাইয়ের। উনি শাবির ৯৭/৯৮ ব্যাচের মনির ভাই। পাগল টাইপের মানুষ। ক্লাশ করতেননা। দিনরাত নতুন নতুন সফটওয়ার বানাতেন। অনেক ড্রপ কোর্স ছিলো। রেজাল্ট ৩ এর নীচে। উনার ব্যাচের ৪/২ পরীক্ষার পরে উনার অনেক কোর্স বাকী ছিলো। সার্টিফিকেট ছাড়াই উনি চাকরী পেয়ে গেলেন মাইক্রোসফট এ। জাফর স্যার উনাকে আমেরিকা থেকে আনিয়ে কোর্সগুলা কমপ্লিট করিয়েছিলেন। কথায় কথায় স্যার একবার মনির ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তোমার রেজাল্ট, সার্টিফিকেট নিয়ে এরা কিছু বলেনা? মনির ভাই উত্তর দিলেন, "না। ওরা ভয় পায় আমি যদি তাহলে চাকরী ছেড়ে দেই।"
(লিখেছেন - সুদীপ্ত কর, CSE, SUST)

Credit: Udvash

Subject Review – EEE

সবাই নাম শুনেছে। ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল। যা ইলেক্ট্রন নিয়ে আলোচনা করে। নামের মধ্য দিয়েই সাবজেক্ট সম্পর্কে হালকা ধারণা পাওয়া যায়। সরাসরি চলে যাচ্ছি সাবজেক্ট রিভিউতে।
সবচেয়ে পুরনো এবং প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোর মধ্যে ইইই অন্যতম আভিজাত্যের অধিকারী। আশেপাশের চারদিকে ইলেক্ট্রনিক্সের বিপ্লব দেখে নিশ্চয়ই এই সাবজেক্ট পড়ুয়াদের গুরুত্ব বা চাহিদা আগ বাড়িয়ে বলে দিতে হবে না?
তোমার এইচএসসিতে প্রিয় বিষয় কি ছিলো? উত্তর যদি হয়ে থাকে Math বা Physics তাহলে তোমার EEE পড়া নিয়ে কোন ভয় নেই। তুমি নিঃসন্দেহে এখানে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে। তোমার যদি Equation Solve করতে মজা লাগে, ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের বিদ্যুতের চ্যাপ্টারগুলো যদি তোমার কাছে অসহ্য না লাগে, তাহলে ইইই তোমাকে হতাশ করবে না কোনদিন। সার্কিট নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে মজা লাগে? রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশ, হুইটস্টোন কার্শফের অঙ্ক করতে ভালো লাগে? আবারো বলবো ইইই নাও।
তোমার যদি উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকে, আর থাকে লেগে থাকার ইচ্ছা তবে তুমি ইইই পড়ে অনেক বড় কিছু করে দেখাতে পারবে। প্রকৌশলিক invention সবচেয়ে চমকপ্রদভাবে দেখানোর উপযুক্ত জায়গা হলো ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
আপাতদৃষ্টিতে দেখতে যেমন মনে হয়, ইইই আসলে তেমন ছোট পরিসরের কোন সাবজেক্ট না। এর পরিধি ব্যাপক, ক্ষেত্র অসীম।
ইইই এর সাবডিসিপ্লিনগুলো লক্ষ্য করো-
1.Power
2.Electronics
3.Telecommunication
4.Computers
Power সেক্টরের ব্যাপারটা মনে হয় সবাই এমনিতেই বুঝতে পেরেছে। যারা বিদ্যুত উৎপাদন আর সরবরাহের দায়িত্বে থাকে। এই সেক্টরের চাহিদা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মুহুর্তে প্রচুর। চাহিদা পুরনের জন্য প্রতি বছরই নতুন নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও চলছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। আর এই সেক্টরের পুরো দায়িত্বই থাকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে। যারা নিজেকে একজন Power management engineer হিসেবে দেখতে চাও, তারা নিঃসঙ্কোচে EEE নিতে পারো।
Electronics নিয়েও সবাই হালকা পাতলা কিছু জানে। Resistor, Capacitor, Inductor এসবের নাম তোমরা শুনে এসেছ। এখনকার সময়ে তোমরা যত ডিভাইস দেখ, তার বেশিরভাগই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট দিয়ে ডিজাইন করা। স্মমার্টফোন, আইপ্যাড, নোটপ্যাড, ল্যাপটপ সবগুলোই ইলেক্ট্রনিক্সের অবদান। Microcontroller এর নাম হয়তো কেউ কেউ শুনে থাকবে। যা রোবটিক্স নিয়ে পড়াশোনার ব্যাপক ইচ্ছা যাদের, তাদের জন্য microcontroller হলো একেবারে শুরুর ধাপ। তবে হ্যা, এদিক দিয়ে আগাতে হলে অবশ্যই পরিশ্রমী আর উদ্যমী হতে হবে।
যাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বেশি, বিস্তর ইচ্ছা আছে এই rapidly running টপিক নিয়ে পড়াশোনা করার, তার জন্য EEE'র দরজা সদা উন্মুক্ত।
Telecommunication, যোগাযোগ নিয়ে কাজকারবার। মোবাইল ফোন কোম্পানিতে মাঝের কয়েক বছর ইইই ইঞ্জিনিয়ারদের বিশাল চাহিদা ছিলো। আমাদের মত দেশে নতুন নতুন নেটওয়ার্ক, টাওয়ার, কভারেজ তৈরিসহ সমগ্র সিস্টেম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে আছে বিপুল সংখ্যক ইইই ইঞ্জিনিয়ার। শুধু এক Grameenphone এই এখন কাজ করছে প্রায় ৫ হাজার প্রকৌশলী, যার বেশিরভাগই ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ব্যাকগ্রাউন্ডের। যত নতুন নতুন টেকনোলজি আসবে, অত চাহিদা Expand করবে। যারা নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত Telecommunication Engineer হিসেবে দেখতে চাও, তাদের জন্য অবশ্যই EEE.
Computer আসলে এমন এক ব্যাপার যাকে কোন কিছু থেকেই আলাদা করা যাবে না। ইইই থেকে পড়ে পরবর্তীতে Software Engineer হয়ে গিয়েছে এমন উদাহরনও আছে অনেক। তুমি যদি প্রোগ্রামিং ভালো বোঝ, কম্পিউটারে ভালো দখল থাকে, তবে ইইই পড়েও তুমি খুব সহজেই CSE সাইডে Divert হতে পারো। যাকে যা suit করে আরকি!!!
ইইই পড়েছ বলে যে তুমি প্রোগ্রামার হতে পারবে না বা সফটওয়্যার বানাতে পারবে না এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল। তোমার যদি Electronics এর পাশাপাশি সফটওয়্যার নিয়েও ঘাটাঘাটি করতে ইচ্ছে করে তাহলে তুমি সহজেই ইইই নিতে পারো। এখানে এই সুযোগ প্রচুর।
চাকরির বাজার নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না। শুধু বলবো EEE হলো একটা Everlasting Subject. যতদিন পৃথিবী টিকে থাকবে অতদিন এর ডিমান্ড কমবে না। দেশে থাকতে পারলে ভালো, যদি তা সম্ভব না হয়, তোমার জন্য আছে বাইরে যেয়ে পড়াশোনা করার অফুরন্ত ক্ষেত্র। দেশে বিদেশে সবজায়গাতেই তোমার সম্মানজনক অবস্থান থাকবে। চাকরি নেই, হাজার হাজার স্টুডেন্ট হয়ে গেছে, এমন শোনা কথায় কান দিতে যেয়ো না। তোমার যদি যোগ্যতা আর মেধা থাকে, তবে EEE পড়ে তোমাকে একদিনও বসে থাকতে হবে না। তুমি ঠিকই তোমার Deserving পজিশনে যেতে পারবে।
আর স্যালারি? এটাও বলবো না। ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই জানতে পারবে। আমার নিজের মতামত হলো স্যালারির উন্মাদনার চেয়ে বিষয়টার প্রতি আকর্ষন থেকেই ইইই তে আসা উচিত।
তোমাদের সবার জন্য রইলো শুভকামনা।
লিখেছেন -
শায়খুল ইসলাম
ইইই, বুয়েট - ২০১১

Credit: Udvash

ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ECE) / ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং(ETE)/ ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং(APECE)

৩ টা বিষয় সম্পর্কে একসাথে লিখলাম – কারণ এদের মাঝে মিল অনেক। মিলগুলো যেমন জানা জরুরি তেমনি কোন কোন জায়গায় অমিল সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করব।
বিশ্বের অন্যতম পুরনো ও প্রথমদিকের ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের নাম বললে চলে আসে EEE- এর কথা। সেই EEE এর থেকেই ECE এর উৎপত্তি । আর ইটিই হল ETE এর এ একটা অংশ ।
ECE বিষয় নিয়ে আগে বলি। এই বিষয়ের CORE COURSE হল ELECTRONICS AND COMMUNICATION । ইলেকট্রনিক্স সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই জানি । সমস্যা হয় কমিউনিকেশন এর বেপারটা মাথায় ঢুকে না। ECE এর কোর্স এ প্রথম দিকে থাকে ব্যপকভাবে ELECTRONICS এর কোর্স। এক সময় COMMUNICATION এ প্রবেশ করবা। ELECTRONICS এর জ্ঞান ছাড়া COMMUNICATION সম্ভব না। ELECTRONICS এর BASIC Clear না থাকলে ETE/ECE/APECE কোনটাতেই সুবিধা করা যায় না।
Communication part তুলনামূলক সহজ এবং Communication Sector এ কাজ করতে গেলেও দক্ষতা লাগবে সেই Electronics এর।
একজন ছাত্র ECE তে সাধারণত যে কোর্সগুলো পরে থাকে [ কোর্সগুলোর নাম এ সামান্য বিভিন্নতা থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে]
1.ANALOG ELECTRONICS; 2. DIGITAL ELECTRONICS; 3.ELECTRICAL MACHINES AND MEASUREMENTS; 4. ELECTRICAL CIRCUIT ANALYSIS; 4. ENGINEERING ELECTROMAGNETIC AND ANTENNA THEORY 5.INDUSTRIAL AND POWER ELECTRONICS ; 6. RADIO AND TELEVISION ENGINEERING; 7.ADVANCED ELECTRONIC CIRCUITS; 8.ELECTRONIC DEVICES 9.OPTICAL FIBER COMMUNICATION; 10. MICROWAVE AND SATELLITE COMMUNICATION; 11. DIGITAL SIGNAL PROCESSING; 12. SCIENTIFIC, INDUSTRIAL AND BIO MEDICAL INSTRUMENTATION; 13.SEMICONDUCTOR AND VLSI TECHNOLOGY; 14. COMMUNICATION THEORY; 15. ADVANCED COMMUNICATION THEORY; 16. CONTROL ENGINEERING; 17. MOBILE CELLULAR COMMUNICATION; 18. TELECOMMUNICATION NETWORK.19. MULTI MEDIA COMMUNICATIONS 20. IMAGE PROCESSING
এছাড়াও PROGRAMMING C/C++, MICROPROCESSOR AND ASSEMBLY LANGUAGE, MICRO CONTROLLER, DATA COMMUNICATION AND COMPUTER NETWORK, COMPUTER PERIPHERAL AND INTERFACING, COMPUTER ORGANIZATION AND ARCHITECTURE, RENEWABLE ENERGY TECHNOLOGY, ENGINEERING DRAWING কোর্স গুলো করতে হয় ।
এছাড়া মাইনর কোর্সগুলোর কথা না বললাম।
তাহলে একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে একজন কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারের পার্থক্যটা হল ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের POWER PLANT ENGINEERING, POWER CONVERSION, HIGH VOLTAGE ENGINEERING, POWER PLANT PROTECTION, POWER SYSTEM RELIABILITY, POWER SYSTEM OPERATION AND CONTROL এই কোর্সগুলো মেজর হিসেবে পড়তে হয়- যেটাকে CORE কোর্স বিবেচনা করা যেতে পারে । কিন্তু কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারদের CORE কোর্স হল Communication related Course গুলো।
Electronics একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের চারপাশের এমন কিছু নেই যেখানে ইলেকট্রনিক্স নেই। আমাদের কমিউনিকেশনকেও ডেভেলপ করেছে সেই ইলেকট্রনিক্স- ই । কমিউনিকেশন বলতে আমরা যা সোজা বাংলায় বুঝি যোগাযোগ। কিন্তু যোগাযোগ কখন ELECTRONICALLY হবে সেটাকে ধরব ECE হিসেবে। তোমার একটা তথ্য আছে সেটা আরেক জায়গায় TRANSFER করতে হবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ হবে DATA LOSS/ATTENUATION কমানের মাধ্যমে তোমার তথ্যের সঠিক প্রেরণ । সেটার জন্য তোমাকে কখন কোথায় কি উপায় প্রয়োগ করতে হবে সেটা শিখান হবে ECE তে। একটা সময় ছিল মোবাইল এ কথা বলতে খরচ ছিল মিনিটে ১০ টাকা। এখন ১০ পয়সা। এটা সম্ভব হয়েছে টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের উন্নতির কারনে। একসময় ছিল ইন্টারনেট ব্যবহার ছিল কল্পনার ব্যপার। এটা এখন সবার কাছে সবচেয়ে সহজ ব্যাপার। কারণ FIBER OPTIC COMMUNICATION সহ কমিউনিকেশন এর উন্নতির কারণে।
তবে এর মানে এই না যে তাহলে সব তো হয়েই গেছে- আমি পড়ে কি করব? মনে রাখবা একজন কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারের কাজ কখনও শেষ হয় না। এখন পর্যন্ত BENDING LOSS, DISPERSION এগুলো কমানো সম্ভব হয়েছে তবে অনেক INFORMATION এখনও LOSS এখনো যথেষ্ট কম না। আর এসব নিয়ে কাজ এখনও হয়ে যাচ্ছে । ভবিষ্যতে আরও হবে।
EEE এর ছাত্র হিসেবে প্রথম লক্ষ্য থাকে কিভাবে বিদ্যতের উতপাদন বাড়ানো যায়? আবার Communication Engineer হিসেবে কাজ করলে লক্ষ্য থাকে কিভাবে বিদ্যতের অপচয় কমান যায় বিভিন্ন সিস্টেমের মাঝে কমিউনিকেশন এর সময়।
ETE বিষয়টা প্রকৃতপক্ষে MOBILE COMMUNICATION কে বোঝায় । এখানে এটার প্রতি ভালভাবে FOCUS করা হায়। তবে প্রায় সব কোর্সই এক। তবে যখন একজন SATELLITE এর উপর কাজ করবে, NASA/ কোন কম্পানির RADAR PROJECT এ কাজ করবে তখন ECE র ই কিন্তু প্রাধান্য বেশি ।
বাংলাদেশে কুয়েটে ECE, রুয়েটে ETE, চুয়েটে ETE, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে APECE, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ECE, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে APECE ও NSU তে ETE ছাড়াও বেশ কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি পরানো হয় ।
এবার ফলিত পদার্থবিজ্ঞান( APPLIED PHYSICS)এর কথায় আসি। এটা পদারথবিজ্ঞান থেকে উৎপত্তি তবে বেশ দূর সম্পর্কের আত্মীয় । পদার্থবিজ্ঞান কে ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ড এ APPLY করার SYSTEM নিয়ে কাজ করে APPLIED PHYSICS. কিন্তু বলতে গেলে যদিও এখন ও বহিরবিশ্বে ৪ বছর ফলিত পদার্থবিজ্ঞান পড়ান হয় বাংলাদেশে এটা ১ বছর ও টার সামান্য বেশি পড়ান হয়- মেজর কোর্সগুলো ঠিক রেখে। বাকি ৩ বছর ECE এর উপরই FOCUS করা হয়। APECE তে পড়ার সময় আমাদের অনেক ছাত্র/ছাত্রীদেরই কিছু Specific field of interest তৈরি হয়ে যায়। জরুরি নয় যে ফলিত পদার্থ নিয়েই হতে হবে। সিনিয়র ভাইয়া/আপুদের দেখে/ শিক্ষকদের কথা শুনে সবাই নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে দেখা যায় কাজ করতে/ ভবিষ্যতে গবেষণা করতে আগ্রহী যা চাকুরি ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ গবেশনার জন্য পথ সুগম করে। ৪ বছরের একাডেমিক কারিকুল্যাম এর পাশাপাশি নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ি Semiconductor Technology/ Bio Medical Technology/ Energy System Engineering/ Image/Signal Processing/ Nano Technology/ Robotics/ Astro Physics/ Renewable Energy ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে যদিও সুযোগ স্বল্পতা সব সময়ই থেকে যায়। সকল বিষয়ে কাজ তুমি একা করতে পারবেনা, নিজেকে নিজের ইচ্ছা আগে বুঝতে হবে। সত্যি কথা বলতে গেলে, Semiconductor ই এমন এক বিষয় যে তুমি সারা জীবন এর সাথে কাজ করে যাবে কিন্তু শেষ হবেনা।
RESEARCH AREAS: [ ECE/ETE/APECE]
ELECTRONICS, COMPUTER NETWORKS, TELECOMMUNICATION, WIRELESS COMMUNICATION, CELLULAR AND SATELLITE COMMUNICATION, SEMICONDUCTOR TECHNOLOGY AND DEVICES, RENEWABLE ENERGY TECHNOLOGY, INTELLIGENT SYSTEM ENGINEERING, DIGITAL SIGNAL PROCESSING, SOLID STATE DEVICE NETWORKING, INSTRUMENTATION, ROBOTICS, BIOMEDICAL TECHNOLOGY, NANO TECHNOLOGY, (SEMICONDUCTOR TECHNOLOGY, QUANTUM MECHANICS, QUANTUM OPTICS, QUANTUM THERMODYNAMICS, OPTO-ELECTRONICS, SEMICONDUCTOR TECHNOLOGY AND MANY MORE. ETC.
# HIGHER FIELD OF STUDIES FROM [ ETE/ECE/APECE]
M.S/ M.PHILL/PHD IN EEE, CSE. MICROWAVE/ SATELLITE ORIENTED COMMUNICATION, NUCLEAR ENGINEERING, ROBOTICS, BIOMEDICAL PHYSICS, THEORETICAL PHYSICS, PHYSICS, ASTROPHYSICS, ENERGY SYSTEM ENGINEERING, RENEWABLE ENERGY TECHNOLOGY, MICROELECTRONICS, NANO ELECTRONICS, CONTROL SYSTEM ENGINEERING ETC.
CAREER OPPORTUNITIES:
# TELECOMMUNICATION AND MOBILE COMPANIES
# WIMAX AND BROADBAND TECHNOLOGY COMPANIES
# BANGLADESH RADIO (RADIO ENGINEER) (*)
# BCS TELECOM CADRE
# SCIENTIFIC OFFICER AT BAEC (*)
# SCIENTIFIC OFFICER, BCSIR (*)
# BCS ECONOMIC CADRE( ASSISTANT CHIEF)
# PETRO BANGLA ( ASSISTANT MANAGER, ELECTRONICS)
# SOFTWARE COMPANIES AND NETWORKING
# BIO MEDICAL INSTRUMENTATION ENGINEER
# GENERAL CADRE SERVICE, PSC (BCS)
# IN ABROAD- COMMUNICATION ENGINEER IN TELECOM AND SATELLITE SECTOR AND WIRELESS COMMUNICATION, MICROWAVE ENGINEER.
বর্তমানে বেশিরভাগ শিক্ষার্থিদের প্রথম লক্ষ্য থাকে গ্র্যাডুয়েশন শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাহিরে যাওয়া।উচ্চ শিক্ষার জন্য যেসব বিষয়/ বিভাগকে আমরা অনেকেই গুরুত্ব দেই তার বেশিরভাগই ECE/ETE/APECE এর সাথে related. Nano Technology/ Energy System Engineering/ Bio-Medical Engineering/ Communication Engineering/ Image Processing/ Control Engineering এ Switch করার জন্য বিষয়গুলো বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ।উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সব সময় থিসিস/ গবেষণা Compulsory হিসেবে থাকে।তাই, শুধু ৪ বছর থিওরি পড়ে পাশ করলেই হবে না, নিজের দক্ষতা তাদের কাছে প্রকাশের জন্য যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে। তাই স্নাতক পড়ার সময় উচিত হবে নিজেদের পছন্দের বিষয়গুলো ঠিক করে নেয়া সেভাবে প্রস্তুতি নেয়া।
এবার বেতন এর কথা একটু বলি। এটা আমার বলা লাগবেনা যে বাংলাদেশ এর যোগাযোগ সেক্টর কতটা পিছিয়ে। যখন এয়ারটেল থেকে বিটিসিএল এ ফোন করা হয় তখন ৫ বার নেটওয়ার্ক এরর হয়। এটা হবে না যদি ECE/ETE এর যথেষ্ট উন্নতি হয়। আর কিছু প্রকৌশলবিদ্যার মত ECE/ ETE/ APECE ও সুবিধা থেকে যথেষ্ট বঞ্চিত। নিজেদের অর্জিত জ্ঞানকে এদেশে কাজে লাগানোর সুবিধা এদেশে কম, কিন্তু নেই- এই কথা কখনই সত্য না। কম এই জন্য, কারন জনশক্তি থেকে সুযোগ কম। টেলিকম কোম্পানি ছাড়াও WIMAX COMPANY গুলো ECE/ETE/APECE GRADUATES দের জব অফার করে থাকে SYSTEM ENGINEER/ NETWORK ENGINEER হিসেবে। তবে যদি একটু বাহিরের দিক টাকাই তাহলে আমার না বললেও চলবে। ভারতেই এখন ECE এর চাহিদা কল্পনাতীত । সেখানে সরকারি ইঞ্জিনিয়ার কোটাতেও ECE ছাত্ররা কোটা পায়। UK তে একজন কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার এর বেতনের হিসাবটা দেখে আস এখান থেকে- [HTTP://WWW.PROSPECTS.AC.UK/]
ECE থেকে নিজেদের পছন্দমত বিভাগে চলে যাওয়া যায়, সেগুলোর প্রত্যেকটিই ওয়ার্ল্ড এর নতুন ও আকর্ষণীয় বিষয়।
এসব কিছুই তোমার সম্ভব- যদি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে সেখান থেকে একটা ভাল CGPA ও দক্ষতা (EXCELLENCE) নিয়ে বের হতে পার। মেধা আছে বলেই বাংলাদেশর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেড়েছ । এখন সেই মেধাকে ঝালাই করার সময়। যোগ্যতা দিয়েই সব অর্জন করতে হয়। চাকরিটাও করতে হবে। তাই নিজের মেধাকে কাজে লাগাও- তোমাকে বলতে হবেনা আমি পাশ করে বসে আছি। যদি নিজের লেভেলটাকে আরেকটু উপরে নেয়া যায় তাহলে হয়ত এমন জায়গায় পৌঁছে যাবে যেখানের কথা চিন্তাও করনাই। তাই প্রথম থেকেই ভাল করে চেষ্টা করে যাও। ECE এর একটা কোর্স আরেকটার সাথে খুব RELATED. তাই প্রত্যেক কোর্সের সময় সেটা ভালমত আয়ত্তে নিবে। যেকোন শিক্ষক এর কাছ থেকেই যা বুঝনা শিখে নিবে। কারণ শিখার সময় কিন্তু মূলত ৪ বছরই। এর পর প্রয়োগ করার। আর যা শুধু নিজের দক্ষতা দিয়েই সম্ভব আর কিছু দিয়ে নয়। একটা কথা না বললেই নয়, কোন বিষয় ভাল/ খারাপ হয় না, সে বিষয়ে তোমার আগ্রহ/ দক্ষতা তোমার শেষ লক্ষে নিয়ে যেতে পারে, তোমার সাফল্য ব্যর্থতা সেটাও বেশরভাগই তোমার উপর বর্তাবে। সবার জন্য সাফল্যের কামনা রইল।
লিখেছেন
WALID-BIN-HABIB
APECE (11-12), DU

Credit: Udvash

"সাবজেক্ট রিভিউ: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি"

"সাবজেক্ট রিভিউ: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি"
বিজ্ঞান চর্চার প্রাথমিক যুগের সূচনা ঘটেছিল গণিত চর্চার মধ্য দিয়ে। মধ্যযুগে তা পদার্থবিদ্যার বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। ধীরে ধীরে নিউটন, গ্যালিলিও, আইনস্টাইন, বোরের তত্ত্ব একে আধুনিক যুগে নিয়ে আসে। কিন্তু, 1920 এর আবিষ্কারের ধারা কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তখন, বিজ্ঞানীরা ঝুকতে থাকে পরিবেশ, পৃথিবী, মানুষ, জীবজগৎ নিয়ে গবেষণার দিকে। বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীকে তাই নিঃসন্দেহে বলা হচ্ছে The Century of Biological Science. এর কারণ 1972 সালে পল বার্গের রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর আবিষ্কার।
প্রাণ রসায়ণের সবচেয়ে আধুনিক এ শাখায় জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা হয় অণু-পরমাণু পর্যায়ে, একে বলা হয় "The Molecular Logic Of Life"। A-T-C-G এই মাত্র চারটি হরফে লেখা এ বিষয়কে বলা হয় Language of GOD. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত ট্রান্সজেনিক (উন্নত বৈশিষ্টধারী) উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টিতে কাজ করে। নামের শেষে ইঞ্জিনিয়ারিং যোগ করার কারণ হচ্ছে, জীববিজ্ঞানের কেবলমাত্র এ শাখাটিতেই নিজের ইচ্ছামত ডিজাইন করে একটি প্রাণী সৃষ্টি করা যায়, ডিজাইন করা যায় নিজের পছন্দের ই.কোলাই যে কিনা নিজের কথামত উঠবে বসবে। কাজটা অনেকটা একটা কম্পউটার প্রোগ্রাম ডিজাইন করার মত, যা তোমার আদেশ সম্পূর্ণ মেনে চলে। চিন্তা করে দেখ, ব্যাপারটা একজন আবিষ্কারকের জন্য কতটা রোমাঞ্চকর যখন সম্পূর্ণ জীবন্ত কিছু একটা নিজের ডিজাইন মত কাজ করছে?
খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এ বিষয়টির সাথে জুড়ে দেয়া হয় বায়োটেকনোলজিকে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি ক্ষুদ্র অংশ। বায়োটেকনলজির অন্যান্য শাখা গুলো হল মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োস্ট্যাটিসটিক, ইমিউনোলজি, ওর্গানিক কেমিস্ট্রি, এনজাইমোলজি, ইনসিলিকো (কম্পিউটেশনাল) বায়োলজি, টিস্যু কালচার ইত্যাদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিভাগটিতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে সাথে এ সবগুলো বিষয়ই প্রথম থেকেই পড়ানো হয়। একারণেই একজন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ায় একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট কারণ, নিজের ব্যাকটেরিয়াগুলো তাকে পেটরি ডিসে জন্মাতে হয়; সে একজন বায়োকেমিস্ট কারণ নিজের সৃষ্টি জীব থেকে সংগৃহীত প্রোটিন তাকে বিশ্লেষণ করতে হয়; সে একজন পরিসংখ্যানবিদ কারণ 3.2 বিলিয়ন বেস পেয়ারের মাঝে তাকে ধারণা করে কাজ করতে হয়; সে একজন অর্গানিক কেমিস্ট কারণ নিজের আবিষ্কৃত ওষুধের মলিকিউলার গঠন তাকে বের করতে হয় এবং পরিশেষে একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী কারণ বিশাল ডিএনএ এনালাইসিসের জন্য তাকে সফট ওয়ার ডিজাইন করতে হয়। এ সবই শিখানো হয়ে কার্জন হলের পাশে সাদা বিল্ডিংটার ৬ তলায়। তুমি সত্যিই হয়ে উঠবে “Jack of all traits, master of SOME".
কি কি গুণ লাগবে বিশ্বের আধুনিকতম এ বিষয়ে পড়তে? তোমাকে হতে হবে খুবই অভূতপূর্ব চিন্তাবিদ, কঠোর পরিশ্রমী, মানবিক গুণসম্পন্ন বিশেষ করে দেশপ্রেমিক। পাশাপাশি ঝানু হতে হবে জীববিজ্ঞান, জৈব রসায়ন এবং প্রোগ্রমিং এ। চিন্তা করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে এমন কিছু করা সম্ভব যা কেউ ভাবতেও পারে না। যেমন, একবার এক বিজ্ঞানী ঠিক করলেন ছাগলের দুধের মধ্যে তিনি মাকড়সার জালের সূতা তৈরি করবেন যা হবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সূতা। তিনি সফল হয়েছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে এবং সৃষ্টি করেছিলেন বায়োস্টীল! (http://en.wikipedia.org/wiki/Biosteel)। সুতরাং, আজগুবি চিন্তা করতে জানতে হবে।
এত অবিশ্বাস্য জিনিস একদিনে আবিষ্কার হয় না। তাই, তোমাকে হতে হবে কঠোর পরিশ্রমী। ল্যাবে দৈনিক 15 ঘন্টাও কাজ করতে হতে পারে! আরাম প্রিয়, ঘুমকাতর হলে এখানে চলবে না। চাকরী থেকে এখানে গবেষণার ক্ষেত্র অনেক বেশী। চাকরীর ক্ষেত্র এ দেশে বেশী না থাকলেও (ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানির কথা বাদ দিলে) বিদেশে প্রচুর, সেখানে বেতনটাও অনেক অনেক চড়া। তবে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সরকার সবচেয়ে বেশী টাকাটা এই 15 জনের পেছনে খরচ করবে। তাই, অনেক ভালো রেজাল্ট করে বিদেশী ডিগ্রি নিয়ে সেখানেই থাকার ইচ্ছা থাকলে বলে রাখছি, খবরদার! এ দাড় তোমাদের জন্য না। মানবিকতা এখানে অনেক বড় ব্যাপার। কারণ, মোরাল দিকগুলো আজকাল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাড়াচ্ছে। (তাই, ইথিক্যাল ইস্যু নিয়েও কোর্স পড়ানো হয় এখানে)।
বাংলাদেশের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হিসেবে ধরা হয়, পাটের এবং এর পরজীবী ছত্রাকের জিন নকশা আবিষ্কারকে। এই নকশা কাজে লাগানোটা এ দেশের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারদেরই দায়িত্ব। এবিভাগের অনেক ছাত্রই এটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কয়েকজনের লেখা টেক্সবই এখন দেশ বিদেশের পাঠ্য (http://www.amazon.co.uk/s…)। নেচার ম্যাগাজিনের কভারের প্রতিদিনিই জায়গা করে নিচ্ছে জাপান, আমেরিকার জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার রা। টিস্যু কালচার টেকনোলজি নোবেল পেল 2012 সালে! বায়োকেমিস্টরা তো কেমিস্ট্রির সবগুলো নোবেলই প্রতি বছর পকেটে পুড়ছে। আমাদের সরকার বর্তমানে এ বিষয়ে গবেষণাতে বাজেট বরাদ্দ দিচ্ছে। দেশের গবেষণাগার গুলো উন্নত হয়ে উঠছে দিন দিন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ-কৌতুহলও গগণচুম্বী। তাহলে, “ডাক্তারদের ইঞ্জিনিয়ার” হিসেবে 2025 সালের “নেচার” ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজের ছবি কি দেখতে চাও?
Remember, the choice is yours!
মো. শামীর মোন্তাজিদ
জিনপ্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Credit: Udvash
Blogger দ্বারা পরিচালিত.

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

 

© 2013 Subject N Review. All rights resevered. Designed by Templateism

Back To Top