বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

সাবজেক্ট রিভিউ - গ্লাস এন্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (GCE)

আধুনিক বিশ্বের চলমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আলো থেকে আলোকিত করতে স্বীকৃত অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার সিরামিক। দেশের ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০১১-১২ সেশনে রুয়েটেই প্রথম এই বিভাগের শুভসূচনা ঘটে, যদিও বুয়েটে এই বিষয়ে এম.এস.সি কোর্স চালু আছে।
এখন আসা যাক, গ্লাস এন্ড সিরামিকে কি কি বিষয় পড়ানো হয়। প্রথমেই বলি, বিশ্বে মেটাল আর প্লাস্টিক ছাড়া যা কিছু আছে সবই সিরামিকের অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা নেটে সার্চ দিলে দেখা যাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে সাবজেক্ট খোলা আছে, কিন্তু বাংলাদেশে গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক বিষয়টি একসাথে দেওয়া হয়েছে বিশ্বে শুধুমাত্র গ্লাসেরই ব্যবহার প্রচুর এই কারণে, যাতে করে এটার উপর আলাদা গুরুত্বারোপ করা হয়।
এক কথায় যদি বলতে চাই, গ্লাস এন্ড সিরামিকে কি পড়ানো হয় তাহলে বলতে হবে গ্লাস এন্ড সিরামিক সম্পর্কীয় পণ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া বা ইংরেজিতে যেটাকে বলে প্রোডাকশন প্রসেস । এছাড়া বিভিন্ন রকমের গ্লাস এবং সিরামিকের গঠন প্রণালী এবং তাদের ডিজাইন ও স্ট্রাকচার ডেভলপ ও এনালাইসিস সম্পর্কে বেশ ভালো একটি ধারণা দেওয়া হয় । এই সাবজেক্টে সৃজনশীলতার অনেক সুযোগ রয়েছে । প্রোডাকশন প্রসেস কিভাবে সহজ করা যায় তা একজন সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার এর দায়িত্ব । যত প্রসেস সহজ হবে উৎপাদিত জিনিসের দাম ও তত কম হবে।
অনেকের হয়তবা একটা ধারণা রয়েছে যে সিরামিক মানেই চীনামাটির থালা-বাসন, মগ, টাইলস। মজার ব্যাপার হচ্ছে যে আমার নিজেরও কিন্তু প্রথমদিকে এমনটি ই ধারণা ছিল। কিন্তু সত্যি বলতে, সিরামিকের ব্যাবহারের ক্ষেত্রে এগুলো খুবই সামান্য উদাহরণ । আমাদের মোবাইল সিমকার্ড তৈরি করা হয় সিরামিক উপাদানের উপর রেখে, এছাড়া মেমোরি কার্ড কিংবা হার্ড ডিস্কের যে কোয়ালিটি ডেভলপ সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে হয় একজন সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার কে । এছাড়া রকেট, প্লেন এসবে তো সিরামিকের ব্যবহার আছেই।
এবার আসি জব সেক্টর প্রসঙ্গে। প্রথমেই বলে নেই অনেকের ভেতর একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে নতুন সাবজেক্ট যেহেতু তাই হয়তবা জব সেক্টরে তেমন একটা ডিমান্ড নাই। এটা সবার একটা ভুল ধারণা। মুলত ভার্সিটি গুলোতে নতুন বিষয় খোলা হয় দেশের ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে।
গ্লাস এন্ড সিরামিক পড়ে জব করার প্লেস হচ্ছে বিভিন্ন গ্লাস এবং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি । আমাদের বাংলাদেশে ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ এর উপর গ্লাস এবং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি আছে ।তাই জবের জন্য আলাদা করে চিন্তা করার কোন অবকাশ নেই। এছাড়া এটা যেহেতু প্রোডাকশন প্রসেস রিলেটেড তাই তুমি ইচ্ছে করলেই প্রোডাকশন সেক্টরে সুইচ করে চলে যেতে পারো।
এছাড়া মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও কিন্তু একজন গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার ইচ্ছে করলেই বড় ভুমিকা রাখতে পারে। সুতরাং, বুঝতেই পারছ যে জব ফিল্ডে এই বিষয়ের চাহিদা। একটা বিষয় তোমাদের বলে রাখি যে, যেহেতু রুয়েটেই একমাত্র এই ডিপার্টমেন্টে বি এস সি কোর্স কমপ্লিট করানো হয় তাই চাকরীর ক্ষেত্রে তোমার পূর্বসূরি হবে কিন্তু তোমার ই ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়ারা আর বিদেশে তো আরও চাহিদা রয়েছে ।
তারপরে তুমি তোমার দক্ষতা দিয়ে আরও ভাল পজিশনে যাবার সুযোগ তো আছেই। কারণ পড়াশুনা শেষ করে একজন গ্লাস এন্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে জব করবে আর এই সেক্টরে দক্ষতা বেশি করে দেখা হয় সিজিপিএ নয় খুশির খবরহচ্ছে- আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রি গুলো থেকে উৎপাদিত সিরামিক পণ্য এখন বিদেশ ও রপ্তানি হচ্ছে দেশের চাহিদা মিটিয়ে।
শেষে শুধু এটুকুই বলব- দিন যত যাচ্ছে গ্লাস এন্ড সিরামিকের ব্যবহার ততই বাড়ছে এবং নিকট ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম চাহিদা সম্পন্ন সাবজেক্ট এটি হতে যাচ্ছে এই বিষয়ে সন্দেহ নেই। সবাই কে সিরামিকের বর্ণীল জগতে স্বাগতম।
লিখেছেন
আব্দুল মোবিন
গ্লাস এন্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং
২য় বর্ষ, রুয়েট।

Subject Review: Leather Engineering (LE)

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যকে সংশ্লেষণ,উৎপাদন এবং পরিশুদ্ধ করণের সাথে জড়িত, যার মাধ্যমে এগুলোকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক দ্রব্য যেমনঃ
Footwear,Clothing,Gloves,Bags,Pholstery - including Automobiles and Sports goods ইত্যাদিতে রুপান্তরিত করা যায় ।উইকিপিডিয়া অনুসারে “Leather is a durable and flexible material created by tanning of animal rawhide and skin”।অর্থাৎ ‘Leather’ বলতে শুধু মাত্র চামড়া (skin) বললে ভুল হবে।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এই সাবজেক্ট টা নিয়ে একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে। অনেকেতো একে ‘চামড়া প্রকৌশল’ বলে দাবি করে! যাই হোক আসল কথায় আসা যাক,এর manufacturing process টি বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে cottage industries থেকে heavy industry তে ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি তে পড়ানো এই Leather Engineering সাবজেক্ট টি মূলত Raw leather কে Finished leather এ synthesis করার তিনটি পর্যায় সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে শিক্ষার্থীদেরকে। এই তিনটি পর্যায় গুলো হলঃ Preparatory stages, Tanning and Crusting ।
এখন আসা যাক Leather Engineering বিভাগের core subject গুলো সম্পর্কে। Core subject গুলো হলঃ*Biochemistry of proteins, *principles of Pre-Tannage,*Analytical chemistry of pre –Tanning materials, *Biotechnology of Leather manufacture,*Mechanics Leather Machines, *Methods of leather manufacture,* Post tanning operations, *Analytical Chemistry of Post tanning & finishing agents,*Analytical Chemistry of leather, *Footwear Engineering and Leather products Engineering.
এই বিষয় গুলো ছাড়াও চার বছরের কোর্সের এই ডিপার্টমেন্টটিতে প্রথম ২ বছরে ডিপার্টমেন্টল সাবজেক্ট এর পাশাপাশি Basic Electrical Engineering, Computer fundamental and programming , computer aided graphics design, Basic Mechanical Engineering, ইত্যাদি বিষয়গুলো সহ Inorganic and Organic Chemistry, Mathematics, Physics, Accounting, English, and Economics সাবজেক্ট গুলো পড়ানো হয়।
Leather Engineering এ B.Sc Engineering পাশ করার পর শিক্ষার্থীরা Leather Engineering এ M.Sc করার পাশাপাশি Chemical Engineering এবং IPE ডিপার্টমেন্ট এও M.Sc Engineering পড়তে পারে। একজন Leather Engineering এর স্টুডেন্ট যে সকল সেক্টরে job করতে পারেঃ
• As Leather Engineer
• As Chemical engineer
• In Footwear Industry
• In Leather Products Industry
• In Leather Products Development Industry
• In Polymer Industry
• In Dyeing Industry
• Waste Management Industry
• Renewable Energy
বাংলাদেশে কেবল মাত্র ২ টি ইউনিভার্সিটি তে B.Sc in Leather Engineering ডিগ্রী প্রদান করা হয়ে থাকে । Khulna University Of Engineering & Technology (KUET) এ (60 seats) এবং Instute of Leather Engineering & Technology (University of Dhaka) তে (LE=40 seats, FWE=40 seats, LPE=40 seats) ।
কুয়েটে Leather Engineering ডিপার্টমেন্টে একইসাথে Leather Manufacturing Engineering, Leather products Engineering এবং Footwear Engineering বিষয় গুলো পড়ানো হয়। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে Leather Engineering & Technology অনুষদে ঐ তিনটি সাবজেক্ট এ আলাদা আলাদা তিনটি department আছে ।
আমাদের দেশে ঢাকার হাজারীবাগ ছাড়াও চট্রগ্রাম এ ও leather and leather goods এর বর্তমান চাহিদার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে Leather Industry । কিন্তু এসকল industry এর জন্য যে পরিমান দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দরকার তা fulfill করতে পারেনি বাংলাদেশ, ফলশ্রুতিতে বিদেশ থেকে leather engineer বাংলাদেশে আনা হচ্ছে । বাংলাদেশ সরকার এই চাহিদা বুঝতে পেরে 2010 সালে কুয়েটে ৬০ আসন বিশিষ্ট Leather Engineering department খোলার অনুমোদন দেয় ।
চামড়া ও চামড়া জাত দ্রব্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের Leather Industry চতুর্থ অবস্থানে (বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের মধ্যে )। একটা সময় ছিল যখন মানুষ tannery এর নাম শুনলে নাক শিটকে নিতো, কিন্তু সাবজেক্ট টার সাথে বিভিন্ন কেমিক্যাল term এর পাশাপাশি bio-chemical এবং bio-technological term এর সংমিশ্রণের কারণে Leather Engineering বর্তমান বহির্বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
লিখেছেনঃ হাসান রনি
লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, কুয়েট

Subject Review : Applied Statistics

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Applied Statistics Department এর সাবেক ছাত্র । মজার ব্যাপার হল যখন আমি ঢাবি তে ভর্তি পরীক্ষা দেব তখনো নিজে জানতাম না এই বিষয়টা কেমন ? যাহোক, আমার মনে হয় কোন বিষয় পড়ার আগে চিন্তা করা উচিত সেই বিষয়ে কী পড়ানো হয় এবং যা পড়ানো হয় তার জন্য কী কী Basic Knowledge থাকা জরুরী।
Applied Statistics এ পড়ার জন্য সবচেয়ে বেশী জরুরী হল Quantitative Analysis এর উপর দক্ষতা । আমি Mathematics না বলে Quantitative Analysis বলছি এ জন্য যে, Pure Mathematics বলতে যা বোঝায় এটা তা থেকে ভিন্ন । এছাড়া Student যদি নিজে খুব বেশী Logical না হয় তবে এ বিষয়টি পড়া তার জন্য খুব সহজ হবেনা ।
আমার মতে যাদের মধ্যে এই গুনগুলো আছে কেবল তাদেরই আসা উচিত Applied Statistics এ পড়তে । তাছাড়া ISRT (Institute of Statistical Research & Training) তে প্রচুর পড়াশোনার চাপ থাকে । Teacher রা এখানে খুব বেশী Friendly. এবার আসি মূল কথায় Applied Statistics এ পড়লে Carrier কেমন হতে পারে…
Applied Statistics / Statistics প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন । BCS থেকে Bank Job সবজায়গাতেই Applied Statistics এর জয়জয়াকার । বিসিএস (সাধারন), বিসিএস (পরিসংখ্যান), প্রভাষক (পরিসংখ্যান) নামে তিনটি Field এ Applied Statistics এর ছাত্ররা বিসিএস পরীক্ষায় Apply করতে পারে যার মধ্যে শেষের দুটি কেবল তাদের নিজস্ব । অন্যরা এক্ষেত্রে কেবল দুটি Field এ Apply করতে পারে । Private Bank গুলোতে Applied Statistics এর শিক্ষার্থীদের জয়জয়াকার । Bangladesh Bank এর AD (General) এর পাশাপাশি AD (Statistics) ও AD (Research) নামে আলাদা দুটি Field আছে যাতে Statistics/Applied Statistics/Economics ই Apply করতে পারে । যেকোন Research ধর্মী প্রতিষ্ঠান মানেই Applied Statistics/Statistics যেখানে ISRT এর শিক্ষার্থীদের ভীষন চাহিদা । ICDDR,B, NIPORT, AC Neilson সহ বড় বড় Research প্রতিষ্ঠানে Applied Statistics এর জয়জয়াকার ।
আসল কথাতো বলাই হয়নি, BBS (Bangladesh Bureau of Statistics) এরনিয়ন্ত্রঙ্কর্তাতো আমরাই সেটা বলাই বাহুল্য । এছাড়া ফ্রিল্যান্সার হিসেবে IT এর পরে Applied Statistics ই বেশী গুরুত্বপুর্ন । তবে মনে রেখ, ISRT এর শিক্ষার্থীরা এমনি এমনি শুধু তাদের Subject এর মাধ্যমে এ পর্যায়ে এসে পৌছায়নি । এই Department এর সকল শিক্ষার্থীই স্বভাবত ভীষন অধ্যবসায়ী, ভীষন পরিশ্রমী এবং নিসন্দেহে মেধাবী । Department তাদের এমন চাপ নিতে শিখিয়েছে যে কোন কিছুকেই তারা চাপ মনে করেনা । এমন একটি Department এ পড়ে আমি ভীষন গর্বিত । যদি প্রস্তুত থাক ; তবে Applied Statistics এ তোমাদের স্বাগতম ।
লিখেছেন
অরূপ দাস
ফলিত পরিসংখ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Lecturer (Statistics)
Asia Pacific University
Stamford University (খন্ডকালীন)

সাবজেক্ট রিভিউ : টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং

বস্ত্র প্রকৌশল বা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বর্তমান সময়ের অনেকের কাছেই একটি পছন্দনিয় বিষয় এবং ইদানিং কালে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করা যাচছে যে, বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বর্তমানে এই বিষয়ে বিদ্যা অর্জনে আগ্রহী কিন্তু অধিকাং ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় যেটা তা হল, এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ থাকে যারা কিনা এই বিষয় সম্পর্কে বেসিক কোন ধারনা পোষন না করেই নেহায়েত লোকমুখে প্রচলিত নিশ্চিত সুন্দর ভবিশ্যতের টানে এই বিষয়ে বিদ্যা অর্জনে আগ্রহী হয়। যারা একি সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছ সেই সাথে একটি মধুর বিড়ম্বনায় পড়েছ যে কোন বিষয়টা বেছে নিবে পড়ার জন্য তাদের উদ্দেশ্য করেই আমি চেষ্টা করব টেক্সটাইল ইঞ্জি্নিয়ারিং বিষয়ে বেসিক ধারনা দেবার যাতে করে তোমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া অনেকটা সহজ হয়।
প্রথমেই বলে নেয়া ভাল যে, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত ৪ টি বেসিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়। প্রক্রিয়াগুলো হলঃ
‪#‎ইয়ার্ন_ম্যনুফ্যাকচারিং‬ : আমরা সবাই জানি যে, একটা ্পোশাক এর মূল উপাদান হল সূতা এবং এই ধাপে প্রধানত কিভাবে ভাল এবং কোয়ালিটিফুল সুতা প্রসেস করে একটি ফ্যাশনেবল পোশাক বা যে কোন ধরনের গার্মেন্টস প্রডাক্ট তৈরী করা যায় সেটা নিয়ে বিষদ কাজ করা হয়।
‪#‎ফেব্রিক_ম্যানুফ্যাকচারিং‬: এই ধাপে মূলত সূতা থেকে কাপড় তৈরীর কাজ করা হয় এবং বেশ কিছু জটিল ধাপ অতিক্রম করে একটি কোয়ালিটিফুল কাপড় উতপাদন করাই এই ধাপের উদ্দেশ্য।
‪#‎ওয়েট_প্রসেসিং‬: এই ধাপে কাপড় কে পছন্দনীয় রং দেয়া হয় এবং অত্যন্তু নিখুতভাবে কাজটি করা হয় যেন কাপড় এর সাথে রঙ এর যে মিশেল সেটা অত্যন্ত টেকসই এবং গুনসম্পন্ন হয়। এই ধাপ মূলত রাসায়নিক প্রযুক্তি নির্ভর বলে এটাকে অনেকে টেক্সটাইল কেমিস্ট্রি বলেও আক্ষায়িত করেন।
‪#‎গার্মেন্টস_ম্যানুফাকচারিং‬: উপরোক্ত তিনটি ধাপ অতিক্রম করার পর এই ধাপে মুলত sampling, fabric spreading, cutting, sewing, washing(if necessary), finishing. করা হয় এবং যেই complete dress আমরা পরিধান করি সেটা কাপড় থেকে পুরো ফিনিশিং প্রসেস পর্যং ধাপগুলা এই গারমেন্টস ম্যানুফাকচারারদের ই অবদান।
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, একটা সুন্দর কাপড় যেটা কিনা আ্মরা YELLOW বা CATS EYE বা বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ড থেকে শুধুমাত্র পকেট এর টাকা খরচ করেই কিনে ফেলছি এবং সেটা পরে বিভিন্ন পার্টিতে বা বন্ধুমহলে ঘুরে বেড়াচছি সেটার পেছনে কত লোকের শ্রম জড়িত শুধু তাই নয় পুরো প্রক্রিয়া কিন্তু একজন দক্ষ বস্ত্র প্রকৌশলীর সু্নিপুন দিকনির্দশনা বা দক্ষতা ছাড়া অসম্ভব।
এখন শুধু পোশাক বানিয়ে বসে থাকলেই ত আর হবে না বরং এর জন্য দরকার ব্রান্ডিং এবং আমদের তৈরী পোশাক কে বিদেশের মাটিতে উপস্থাপন করা, যাতে করে সারা বিশ্বের মানুষ "made in Bangladesh" ট্যাগ চিহ্নিত পোশাক পরতে পারে এবং আমরা ইতিমধ্যেই সবাই জানি যে, এই তৈরী পোশাক ই আমাদের রপ্তানীর মূল অস্ত্র এবং এইটার উপর ভর করেই কিন্তু গোটা অর্থনীতি এতটা শক্ত অবসথায় দাঁড়িয়ে আছে। তাই একজন বস্ত্র প্রকৌশলী হওয়া মানে কিন্তু সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখার সৌভাগ্য অর্জন করা। আর এই তৈরি পোশাক কে ফ্যাশনেবল করা এবং একটি সুন্দর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ সময়ের মধ্যে রপ্তানী করার জন্য আরও দুটি শাখা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে জড়িত আর তা হল-
1. ফ্যাশন ডিজাইনিং: এই বিষয়ে সবার ই কমবেশি ধারনা থাকায় বিস্তারিত বলার প্রয়োজন মনে করছি না।
2. টেক্সটাইল ম্যনেজমেন্ট : গোটা টেক্সটাইল প্রসেস সম্পন্ন করার পর সেটাকে সম্পূর্ন নিরাপদে রপ্তানি করে ক্রেতার কাছে পৌছে দেবার মধ্যবর্তী সময়ে যে ধাপ গুলা অতিক্রম করতে হয় সেই ধাপ গুলোই এই বিভাগের উপজীব্য বিষয়। production process supervision, quality controlling, inventory process monitoring, facilitating marketing process, সহ আরও বিষয়গুলো এই বিভাগের সাথে জড়িত।
সারকথা হল একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারকে উপরোক্ত ৬ টি বিষয়ের উপরেই সমানভাবে পারদর্শী হতে হয় কারন তার উপর ই ত নির্ভর করে " made in Bangladesh" ট্যাগের সার্থকতা আর সফলতা।
এতখন বলছিলাম পুরা প্রসেস এর কথা, এখন বলব এই বিষয়ে অধ্যায়ন করে ভবিশ্যতে কোথায় কিভাবে ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে আমার বন্ধু শুভা জাহিদ এর একটা লেখা না শেয়ার করলেই নয়। আশা করি তার দেয়া তথ্যগুলো ক্যারিয়ার নিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে। লেখাটি হুবহু তুলে দেয়া হলঃ
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার দের কাজ কী, এরা আসলে কি করে, কেনই বা এদের কে উচ্চবেতনে চাকরি দেয় টেক্সটাইল শিল্পমালিক রা। অনেকেই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নাম শুনলেই নাক সিটকান, বলেন এইটা কোন ইঞ্জিনিয়ারিং হইল, কাপর-চোপরের আবার কিসের ইঞ্জিনিয়ারিং? শতকরা ৮০ভাগ লোকই জানেন না যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরি মানে কাপর-চোপরের ইঞ্জিনিয়ারিং না। এটি সম্পূর্ন ম্যানুফ্যাকচারিং বেসড একটি প্রসেস যেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ার কে মেশিন সেটাপ থেকে শুরু করে প্রসেস কন্ট্রোল, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট , গিয়ার মেকানিসম এবং মেইন্টেনেন্স নিয়ে কাজ করতে হয়। স্পিনিং এর ইঞ্জিনিয়ার দের প্রোগ্রাম ইনপুট দেয়া জানতে হয়। ওয়েট প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ার দের প্রথম সারির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। নাসার বিজ্ঞানিরা যারা দীর্ঘদিন যাবত মহাকাশে মানুষ পাঠাতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা অসংখ্য টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার দের গবেষনায় নিযুক্ত করে স্পেস স্যুট এবং ন্যানোফাইবার, কার্বন ফাইবারের শিল্ড তৈরীর জন্য। অতি সম্প্রতি বুয়েট নন-ওভেন জূট টেকনোলজী কে জিও টেক্সটাইল হিসেবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজে ব্যবহার শুরু করেছে, আগামিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়মিত বিষয় হিসেবে যখন জিও-টেক্সটাইল পড়ানো হবে তখন এই কোর্সের জন্য বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার দেরকেই শিক্ষক হিসেবে পাবে তারা। সত্যি বলতে কী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টের সাথে সব চেয়ে বেশি মিল রয়েছে আইপিই ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে।
যাই হোক, পেশা হিসেবে অনেকের অ্যালার্জি থাকলেও বাংলাদেশে একমাত্র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার রাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে " মেইড ইন বাংলাদেশ " ট্যাগ এ ব্র্যান্ডিং শুরু করেছে। বিশ্বের ২য় বৃহত্তম জিন্স ব্র্যান্ড এইচ এন্ড এম শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকেই বছরে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার মুল্যের পন্য নিয়ে থাকে, আজ আমরা যারা হলিউডের মুভি দেখে অভ্যস্ত তারা কয়জনে জানি এই সব নামীদামি সেলিব্রেটিরা বাংলাদেশ এর নাম কে এক্টি ব্র্যান্ড হিসেবে জানে? ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রেড ওয়ান জার্সি , ন্যাটোর ক্যামোফ্লেজ ড্রেস থেকে শুরু করে ডিজেল, রিবক, নাইকি, পুমা কারা নির্ভর করে না এই দেশের টেক্সটাইল প্রোডাক্ট এর উপর? আর যারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ কে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করেছেন তারা এই দেশের ই টেক্সটইল ইঞ্জিনিয়ার রা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ কে টেক্সটাইল সেক্টরের পরবর্তি চীন হিসেবে ঘোষনা করেছে।
এই হল বস্ত্র প্রকৌশল বিষয়ে সারসংক্ষেপ। যারা এই ব্যাতিক্রমধর্মী কিন্তু অত্যন্ত সম্মানিত এই বিষয়ে পড়তে চাও তাদের জন্য আশা করি কিছুটা হলেও ধারনা দিতে পারবে এই লেখাটি। বলা যায় না হয়ত তুমি ই হতে পার সেই যার ডিজাইন করা পোশাক পরে তোমার ই প্রিয় কোন খেলোয়াড় তোমার ই সামনে কোনদিন উপস্থিত হতে পারে।
so think different, be different.
লিখেছেন -
ফাহাদ মাহমুদ
শিক্ষার্থী, ৩৬ তম ব্যাচ
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়

Subject Review - Pharmacy

“Study in pharmacy and fly to America’’ – এমনই একরকম স্লোগান চালু হয়ে যায় ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগ প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন ৩ টি বিভাগ নিয়ে গঠিত ফার্মেসী অনুষদ। প্রথম দিককার বেশীরভাগ ফার্মাসিস্টরাই পাড়ি জমান আমেরিকায় ও মধ্যপ্রাচ্যে। আবার কেউ কেউ কানাডা, ইউকে বা অস্ট্রেলিয়ায়। বাকিরা যারা দেশে আছেন তাদের হাত ধরেই সামনের দিকে এগুতে থাকে আমাদের ওষুধ শিল্প। পরবর্তীতে ফার্মেসী বিষয়টি খোলা হয় জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদার ৯৭ ভাগই বাংলাদেশে তৈরি হয় আর রপ্তানি করা হয় বিশ্বের প্রায় ৮৭ টি দেশে। আগামী ১০ বছরে মধ্যে ওষুধ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য বা পথ্য। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের এই উৎকর্ষ যাদের হাত ধরে সাধিত হয়েছে তারা হচ্ছেন ফার্মাসিস্টরা।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ফার্মেসী পড়ানো হয় ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, খুলনা, জগন্নাথ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (আরও ২/১ টা থাকতে পারে!)
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক, স্টেট, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট, ব্র্যাকসহ আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে।
কি পড়ানো হয় ফার্মেসীতে? ফার্মেসীতে যা পড়ানো হয় তার মধ্যে রয়েছে রসায়ন (inorganic/organic/physical/Analytical/Medicinal chemistry), মানবদেহ (Physiology/Anatomy), ওষুধবিদ্যা(Pharmacognosy / Pharmacology / Pharmaceutical technology / Quality control / Pharmaceutical Engg / Biopharmaceutics), লাইফ সাইন্স এর অন্যান্য বিষয় (Microbiology / Biochemistry / Biotechnology) ও Hospital pharmacy / Clinical pharmacy, Statistics সহ আরও কিছু বিষয়। এত বিষয় দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে এসব বিষয় পড়তে হলে জীববিজ্ঞান (মানবদেহ) ও রসায়নে ভাল হতে হবে।
সবাই যেটা জানতে চাই, আসলে চাকরীর অবস্থা কি ? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করে খুব একটা কেউ বেকার থাকে না। তবে ফার্মা ফিল্ডে চাকরী বেশ saturated হয়ে যাচ্ছে। দেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী পড়ানো হয়,তাই অনেকেই শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেয়। মোটামুটি ভাল রেজাল্ট নিয়ে ভাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হতে পারলে শিক্ষকতায় ঢোকা ব্যাপার না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ফার্মা ফিল্ডে কাজ করছেন। তবে অনেক বেশী ছাত্র যেহেতু বের হচ্ছে তাই ভাল/প্রথম দিকের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসীতে চান্স না পেলে ফার্মেসী পড়ার আগে একবার চিন্তা করে দেখা উচিত।
দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কেমন?
একসময় প্রচুর ফার্মাসিস্ট বাইরে যেতেন। ২০০৩ সালের পর আমেরিকায় ৪ বছরের অনার্স ডিগ্রীধারীদের ফার্মাসিস্ট নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে দিচ্ছে না। অর্থাৎ কেউ যদি আমেরিকায় ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে চান তার ৫ বছরের অনার্স লাগবে বা ফার্ম ডি লাগবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০১০-১১ সেশন থেকে ৫ বছরের অনার্স চালু হয়েছে। এখানে একটা ব্যাপার ক্লিয়ার করা উচিত। আমাদের দেশে বেশিরভাগ ফার্মাসিস্ট যেমন ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন তেমনি বাইরের দেশে বেশিরভাগ ফার্মাসিস্ট কমিউনিটি, রিটেইল, ক্লিনিক বা হসপিটাল ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেন আর তার জন্য লাইসেন্সধারী ফার্মাসিস্ট হতে হয়। আর ৪ বছরের অনার্স নিয়ে আমেরিকা ছাড়া অন্য যে কোন দেশে গিয়ে নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তবে আপনি পিএইচডি করতে চাইলে আমেরিকা যেতে পারেন। আমেরিকায় ফার্মেসী পড়ায় এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অন্যান্য বিষয়গুলোর তুলনায় কম হলেও প্রচুর ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার্থে(মাস্টার্স/পিএইচডি) করতে আমেরিকা, ইউকে সহ অন্যান্য দেশে যাচ্ছেন।
অনেকেই বিসিএস দিয়ে আবার সরকারী চাকরীতেও যাচ্ছেন। কেউ হয়ত খেয়াল করে থাকতে পারেন এবার ৩৩ তম বিসিএস এ সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন একজন ফার্মেসী গ্র্যাজুয়েট!
ফার্মেসী পড়ার একটা সুবিধা হল এ বিষয়ে পড়ে আপনি উচ্চশিক্ষার্থে লাইফ সাইন্স এর যেকোনো দিকে সুইচ করতে পারবেন। তাই আমার মতে যারা লাইফ সাইন্স পড়তে চান তাদের ফার্মেসী প্রথম চয়েজ হওয়া উচিত।
ওষুধবিজ্ঞান উপভোগ করতে পারলে ভাল লাগবে অন্যথায় হতাশ হতে হবে। তবে পড়লে ভাল করে পড়তে হবে। এবার যারা ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসীতে আসছেন তাদেরকে ওয়েলকাম। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ফার্মেসীতে ভর্তি হচ্ছেন তাদেরকে ফার্মাসিস্ট জীবনে স্বাগতম!

Subject Review - Building Engineering & Construction Management (BECM)

দালান তৈরি হল মানুষের আদিম সভ্যতার একটি শিল্প । সভ্যতার প্রথম থেকেই মানুষ তাদের বাসস্থান সম্পর্কে ভেবে এসেছে । সেকারণে এটা মানুষের কাছে আদিম কাল থেকেই একটি অতি চমকপ্রদ শিল্প । যাহোক এটা Civil Engineering এর একটি শাখা ।
KUET এবছর থেকে বাংলাদেশে প্রথম এই বিষয়টি চালু করেছে । 2K13 ব্যাচ প্রথম এটা পড়তে যাচ্ছে ।
as the name is Building Engineering & Construction Management, এটি বুঝায় সংক্ষেপে :
১ । বাড়ি করতে ভুমি জরিপ করা ।
২ । বাড়ির planning করা (with architectural view)
৩ । beam ,column , slab ইত্যাদি সহ বাড়ির বিস্তারিত ডিজাইন অর্থাৎ কটটুকু রড লাগবে , সিমেন্ট , বালি , পানি , ইট ইত্যাদি লাগবে এসব কিছুর ডিজাইন করা ।
৪ । বাড়ির প্লান অনুযায়ী estimation করা অর্থাৎ কতো টাকা লাগবে বাড়ি তৈরি করতে , শ্রমিক খরচ , নির্মাণ সময় হিসাব করা এবং অবশ্যই সাধ্যের মধ্যে নির্মাণ খরচ রাখা ।
৫ । construction management বলতে বুঝাই নির্মাণ স্থলে সুষ্ঠুভাবে কাজ দেখাশোনা করা এবং কোনরকম দুর্ঘটনা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা ।
সাধারন ভাবে BECM তে শেখানো হবে construction technique of a structure & the problem associated with it. এখানে শেখানো হবে foundation design , structural design যেমন slab design , roof design , column failure , ভিতকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করার পদ্ধতি সহ আরও অনেক কিছু ।
higher study এর ক্ষেত্র ও এখানে অনেক । যেমন BSc BECM থেকে করে MSc করা যাবে Structural Engineering , Foundation Engineering , Building Management , Construction Management, Construction Project Management, Sustainable Management, Construction Law and International Construction Management, Civil Engineering and Construction Management সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ।
private sector গুলোতে যেমন বাড়ি নির্মাণ ও দেখাশুনা করা , real estate company ( housing estate ) , নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তে , গণপূর্ত বিভাগে , স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে ও আংশিক কাজের ক্ষেত্র আছে । অর্থাৎ এদের major job sector হল real estate company গুলো , এছাড়া সরকারি ক্ষেত্রে আংশিক ভাবে গণপূর্ত , স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে কাজ আছে । This is an age of developing world by showing its sky scraper. So , the world needs more Civil Engineer having a good knowledge about building construction. If they got a person who is very expert both in designing & management , it will be having like gold cup with silver spoon for them. So, it is clear that the job field is quite bright.
সবশেষে বলতে চাই , বাংলাদেশে এই প্রথম এই বিষয়টি চালু করেছে যেটি একই সাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং Management এর এক মেলবন্ধন । so , নির্দ্বিধায় তোমরা BECM নিয়ে জীবন গড়তে পারো ।
লিখেছেন
মোঃ শফিকুল আলম
শিক্ষার্থী, পুরকৌশল বিভাগ
কুয়েট

Subject review - IT (Information Technology)

- বন্ধু, কি করিস?
- মোবাইল এ গেমস খেলি ।
- কি গেমস দেখি ? মজার তো । কোন ওয়েবসাইট থেকে নামাইসিস ?
- আমি বানাইসি ।
- কি ? সত্যি ?
- হুম , আর কত অন্যের বানানো গেমস খেলবো । এখন আমার গেমস সবাই খেলবে ।
হ্যা। ঘটনাটি সত্যি। এরকম চমৎকার অনুভুতি জন্ম দিতে পারে একমাত্র যে সাবজেক্টটি তা হল আইটি।
আমাদের পাশের দেশ ভারত বর্তমানে এশিয়ায় সফটওয়্যার রপ্তানিতে শীর্ষে । আমাদের দেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। আমাদের দেশকেও এই ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যে প্লাটফর্ম দরকার ছিল তা দেশে সর্বপ্রথম চালু করল IIT(Institute of Information Technology ) DU. IIT থেকেই প্রথম দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সার্টিফিকেটধারি (BSc in Software Engineering-BSSE ) মানে তুমি পাশ করলে তোমার প্রথম পরিচয় হবে তুমি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার । আইটি পড়তে হলে অবশ্যই কিছু জিনিস তোমার মাঝে লালন করতে হবে । সৃজনশীল মানসিকতা, ধৈর্য, সাধনা, চেষ্টা এবং চিন্তাশক্তি ।
প্রথম ভালবাসা হোক প্রোগ্রামিং । প্রোগ্রামার যেভাবে বলবে কম্পিউটার সেভাবেই কাজ করতে বাধ্য । শুধু ঘরে বসে আউটসোর্সিং করে বড়লোক হওয়াই তোমার উদ্দেশ্য নয়। তোমার চিন্তা থাকবে তুমি প্রোগ্রামিং শিখতে চাচ্ছো কারণ বাংলাদেশ যখন চন্দ্রযান পাঠাবে তার নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম লিখবে তুমি, অথবা তুমি ছোট্ট একটা রোবট বানাতে চাও যেটা তোমার টুকিটাকি কাজ করে দেবে। তুমি চাও লক্ষকোটি টাকা দামে বিদেশ থেকে আনা জীবন রক্ষাকারী মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট কম খরচে দেশে বসেই তৈরি করতে । তুমি এমন একজন এক্সপার্ট হতে চাও যে বিভিন্ন কল কারখানা অটোমেটেড করে ফেলতে পারে। অথবা তুমি চাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা করতে… (এই তালিকা অনেক বড় হতে পারে)
অনেক ভাইয়ারা আছেন যারা হয়তবা এসব মটিভেশন থেকেই এক বসায় সারারাত code করে কাটিয়ে দেন । ল্যাব থেকে বের হতে হতে রাত ৬টা – ৭ টা বেজে গেলেও এটাই স্বাভাবিক – এমন প্রস্তুতি নিও । পুরো বছরধরেই কোনো না কোনো প্রোগ্রামিং কনটেস্ট চলতে থাকে । যেমন ACM-ICPC contest(https://www.facebook.com/ICPCNews ), DUITS, IUT national contest , BUET CSE week etc. বিভিন্ন ভার্সিটি এর স্টুডেন্টদের সমন্বয় এবং নিজেকে যাচাই করা, অন্য কোনো সাবজেক্ট এ পড়লে এভাবে সম্ভবপর হয়না ।
আমি যদি তোমাকে প্রশ্ন করি গুগল কিভাবে লাখ লাখ ওয়েবসাইট থেকে চোখের পলকে দরকারি ডাটা খুজে এনে তোমাকে দেয় ? তুমি কি উত্তর দেবে ??? উত্তর দেবার জন্য তোমার ভাবতে হবে, ভাবার ইচ্ছা থাকতে হবে , তোমার ধৈর্য থাকতে হবে । হা এটা যদি তোমার থাকে , তোমাকে আইটি তে স্বাগতম । এরকম অনেক এলগরিদম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটা কাজ নিয়ে পরে থাকার মত প্যাশন থাকতে হবে । নতুন নতুন আইডিয়া মাথার মধ্যে সবসময় ঘুরপাক খাওয়াতে হবে । বের করে নিয়ে আসতে হবে বেস্ট এর মধ্যে বেস্ট আইডিয়া টা । একটা আইডিয়া তোমার লাইফ এর জন্য মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে । Microsoft imagine cup, Banglalink grandmaster, Robi challenge এরকম কিছু আইডিয়া seeking campaign.
মুখস্ত বিদ্যা নিয়ে এই সাবজেক্ট এ খুব বেশি দূর যাওয়া যায়না । স্টেপ স্টেপ এ logic and innovation অ্যাপ্লাই করতে হবে । কারো যদি গণিত , পদার্থ ভালো লাগে তার জন্য আইটিতে ভালো করা সহজ হয়ে যায় । তোমার রেজাল্ট যদি খারাপও থাকে কিন্তু তুমি যদি creative and passionate হও তোমাকে কেউ আটকাতে পারবেনা , এটা যেকোনো আইটি স্টুডেন্ট এর কাছ থেকে গ্যারান্টি পাবা । এ জন্যই মনে হয় ভার্সিটি লাইফ এ গিয়ে বড় ভাইদের কাছ থেকে প্রথম Bill Gates এর কথাটাই শুনেছিলাম “I failed in some subjects in exam, but my friend passed in all. Now he is an engineer in Microsoft and I am the owner of Microsoft.' ”
ফেসবুক কিভাবে এত মানুষের তথ্য সংরক্ষণ করে? এলোমেলো ভাবে সংরক্ষণ করলে তাড়াতাড়ি খুজে পাওয়া সমস্যা, তাই তথ্য সংরক্ষণ করার নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক আছে। এজন্য রয়েছে ডাটাস্ট্রাকচার ও ডাটাবেস । অ্যানিমেটেড মুভিতে বা গেমসে আমরা যে এত সুন্দর ছবি দেখি তার জন্য রয়েছে গ্রাফিক্স । কিভাবে মোবাইলে communication ,computer communication, মেইল আদানপ্রদান , facebook এ মেসেজ চালাচালি এসবের জন্য নেটওয়ার্কিং ।
বিভিন্ন co-curricular activities অংশ নিতে পারো । Microsoft Bangladesh এর নানা কার্যক্রমে তুমি অংশগ্রহন করতে পারবে Microsoft student partner হবার মধ্যদিয়ে । BASIS সফটওয়্যার মেলার আয়োজন করে, ওখানে volunteer হতে পারবে । বিভিন্ন international journal এ তোমার research paper পাঠাতে পার । accepted হলে ওরা তোমাকে তাদের দেশে আমন্ত্রন জানাবে । Google apps e তোমার বানানো apps store করতে পারো ।
দেশে প্রথম Microsoft তাদের windows phone এর জন্য apps তৈরির আয়োজন করেছিলো apathon , যেখানে একদিনে ৮০ টির বেশি app তৈরি হয়েছিল এবং এর venue ছিল IIT DU । বাংলাদেশি বংশভুত অস্কার বিজয়ে নাফিস সে কিন্তু একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার । অনেকের প্রশ্ন থাকে ভাইয়া আইটি সেক্টরে জব কেমন ? এখন আইটি এর যুগ । সবার মুখে মুখেই এই কথা শোনা যায় । তুমি কাজ জানলে তোমার জব খোজাঁ লাগবেনা, জব তোমাকে খুজঁবে । Giant organization যেমন Microsoft, Google আমাদের দেশের ভাইয়ারা গর্বের সাথে জব করছেন । Google, Samsung এরা প্রায়ই campus এ এসে recruitment এর আয়োজন করে থাকে । বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠিত আইটি ফার্ম রয়েছে , অনেক মোবাইল কম্পানি , অনেক multinational IT firm আছে ।
তোমার আগ্রহ থাকলে ফ্রীল্যানসার হতে পারবা । প্রতিষ্ঠিত এরকম অনেক ফ্রীল্যানসার উদাহারন তোমার আশে পাশেই আছে । নিজের আইটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পার । গাজিপুর এ আইটি ভিলেজ হতে চলেছে । দেশের বাইরে চাইলে চলে যেতে পারবা ।
নিজের আগ্রহের বিষয়ে ( programming, , web design, networking, database developer, freelancing…. ) দক্ষতা অর্জন করা প্রথম কাজ ।
So , জব নিয়ে পরে চিন্তা করলেও হবে । ইন্টারমিডিয়েটে আইটি সাবজেক্ট পড়ানো শুরু হয়েছে অনেকেই তোমরা জানো ।
কিছু প্রশ্ন অনেকের মনে চলে আসে । ভাইয়া IT আর ICT কি এক ? এক কথায় উত্তর দিলে এক । JU তে বর্তমানে IIT আছে । RU তে ICT । তবে degree কি রকম দেয়া হয় তা জানা নেই ।
মুল প্রশ্ন হল এটা : ভাইয়া IT আর CSE এর মধ্যে পার্থক্য কি ? বিদেশে অনেক আগে থেকেই কম্পিউটার সাইন্স আর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং দুটি আলাদা শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত । আমাদের দেশে ধারনাটি নতুন । CSE এর কাজ হচ্ছে CS tools গুলোকে ডেভেলপ করা আর IT এর কাজ হচ্ছে CS tools গুলোকে প্রপারলি utilize করা (একটু কঠিন মনে হচ্ছে !! ) IT is a specialized stream of CSE। আমার মতে IT আর CSE জমজ ভাই । একজনের জন্ম আগে, একজনের পরে ।
আমি IIT DU আর CSE DU দিয়ে হাল্কা ধারনা দিচ্ছি :
IIT এর বিশেষত্ত হচ্ছে এখানে তোমাকে নরমাল course গুলোর সাথে আলাদা কিছু specialized course করতে হবে যেখানে সফটওয়্যার প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে, simply সফটওয়্যার বানাতে হবে ( পুরো ৬ মাস + ৬ মাস = ১২ মাস ) । IIT এর আর একটি বিশেষ দিক ( যেটার কথাও CSE এর অনেকেই বলবে ) হচ্ছে তোমাকে ৬ মাস industry তে জব ( interne ) করতে হবে ( with salary ). এটা course এর অংশ । কিছু ভাইয়ারা ওখানেই join করে ফেলে , ফলে ৪র্থ বর্ষ এর ক্লাস করতে আসতে চাননা । তাদের স্যাররা জোর করে ধরে নিয়ে আসে ।:p
IT আর CSE এর course গুলো অধিকাংশই মিল আছে । ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেয়া আছে (http://www.iit.du.ac.bd/index.php?id=48 ) । IT তে অন্যান্য কোর্স এর পাশাপাশি SE কে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ।
গত বছর DU ক list এ IT 2nd e fill up হয়ে গিয়েছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম এবং ল্যাব তো আছেই (multimedia, document camera system and Internet facilities) আমরা IT আর CSE এর বন্ধুরা একসাথে বসেই চা খাই, আড্ডা দেই , আইডিয়া শেয়ার করি । ল্যাব এ download speed পাওয়া যায় ৪-৫ এমবিপিএস যেটা অনেকের কল্পনার বাইরে । আমরা যারা দুষ্টু তারা LAN এ বসে বসে FIFA, Need For Speed খেলি। আমরা কিন্তু গতবারের DU ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন আর বাস্কেট বল রানার্স আপ অনেক কম্পানি প্রায় এখানে সেমিনার এর আয়োজন করে থাকে ।
যারা ঢাকায় থাক তারা চাইলে DU তে মুকাররম ভবনে এসে আমাদের সাথে এমনকি স্যারদের সাথেও কথা বলে যেতে পারো। u r welcome.
সব শেষে একটা কথা বলব । যে সাবজেক্ট নিয়েই পড় না কেন , তা সম্পর্কে আগে খোজঁ নেও কি কি পড়ানো হয় এবং যদি সত্যি সেগুলো তোমার ভাল লেগে থাকে তাহলেই সেই সাবজেক্ট এ ভর্তি হও । কোনটা ১ নাম্বার সাবজেক্ট , কোনটা ২ নাম্বার , এটার চেয়ে ওটা ভাল এভাবে বিচার না করে , সেটাই ভাল সাবজেক্ট যেটা তোমার কাছে ভাল এভাবে চিন্তা কর । মানুষের তৈরি এই বিভাজন অনুসরন করে নিজের সাথে প্রতারনা করোনা ।
শুভ কামনা
Arafat Zaman Anik
BSSE 4th Batch
IIT, University of Dhaka
Blogger দ্বারা পরিচালিত.

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

 

© 2013 Subject N Review. All rights resevered. Designed by Templateism

Back To Top